চূড়ান্ত হচ্ছে বিমানের অর্গানোগ্রাম, বোর্ড সভায় উঠছে আজ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) পুনর্গঠন করা হচ্ছে। উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চিফ কমার্মিয়াল অফিসার ও চিফ ফিন্যান্স অফিসারের মতো নতুন কয়েকটি পদসহ  বিভিন্ন বিভাগে ৩ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে প্রস্তবিত অর্গানোগ্রামে। আজ ( মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বিমান পরিচালনা পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে এটি। বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে এই অর্গানোগ্রাম।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স  সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিমানের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিমান পরিচালণা পর্যদ সভা। পর্ষদ চেয়ারম্যান এয়ার মর্শাল ইনামুল বারীর নেতৃত্বে অন্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। বিমানের গত দুটি পরিচালনা পর্ষদে  জনবল কাঠামো  পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরমধ্যে বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য একে আজাদের সাব কমিটি প্রস্তাব করেছে ৫ হাজার ২১৯ জন জনবলের। সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদ সদস্য  সুরাইয়া বেগমের নেতৃত্বাধীন সাব কমিটি প্রস্তাব করেছে ৯ হাজার ৭৩৮ জন।  তবে একে আজাদ সাব কমিটিতে  মাকেটিং অ্যান্ড সেলস,  অ্যাডমিন সাপোর্ট স্টাফ, মোটর ট্রান্সপোর্ট, ডোমেস্টিক স্টেশন, ফরেন স্টেশন ও পে গ্রুপ-১-এর জনবল যুক্ত ছিল না।  এ দুটি সাব কমিটির প্রস্তাবই প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামে তুলে ধরা হবে। বিমানের কার্যপরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায়  দৈনন্দিন কাজে গতি আনতেই নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানের বর্তমান অর্গানোগ্রামের জনবল কাঠামোয় রয়েছে ৩ হাজার ৪০০ জন। যদিও ক্যাজুয়াল কর্মীসহ মোট ৬ হাজার ৫৩২ জন।

আগে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি জনবলকাঠামো তৈরি করেছিল বিমান। তবে তা কার্যকর করা হয়নি। ফলে তিন ধরনের কর্মী রয়েছে বিমানে, যারা তিন রকম বেতন-ভাতায় একই পদে কাজ করছেন। কেউ আছেন স্থায়ী কর্মী পেনশন প্রাপ্য (পি নম্বরধারী), কেউ আছেন জি নম্বরধারী, যাঁরা পেনশন পাবেন না, তবে গ্র্যাচুইটি পাবেন। আরেক ধরনের আছেন, যারা চুক্তিভিত্তিক দৈনিক মজুরি হিসেবে কাজ করেন (সি নম্বরধারী), যারা ক্যাজুয়াল কর্মী হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে মোট জনবলের প্রায় অর্ধেকই ক্যাজুয়াল। তাদের সংখ্যা এখন ২ হাজার ৪০০ জন।

প্রসঙ্গত, বিমানের কর্মরত জনবল সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থায়ী জনবল ছিল ৪ হাজার ৫৯৯ ও অস্থায়ী (ক্যাজুয়াল) ৭৫৬ জনসহ সর্বমোট ৫ হাজার ৩৫৫ জন। একই বছর ৩১ ডিসেম্বর তা দাঁড়ায় স্থায়ী জনবল ২ হাজার ৭৯২ জনে, অস্থায়ী ১ হাজার ৪২৩ জনসহ সর্বমোট ৪ হাজার ২১৫ জন। আবার ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে স্থায়ী জনবল ২ হাজার ৮৭৪ জন, অস্থায়ী ১ হাজার ৮০৯ জনসহ সর্বমোট ৪ হাজার ৬৮৩ জন হয়। বর্তমানে বিমানের জনবল ৬ হাজার ৫৩২ জন। এর মধ্যে স্থায়ী জনবল ৩ হাজার ৪০০ জন এবং ২ হাজার ৩৪৮ জন অস্থায়ী পদ। এছাড়া বিএফসিসিতে ৬৯৪ এবং পোল্ট্রি কমপ্লেক্সে ৯০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন।

উল্লেখ্য, জনবল ৪ হাজার ৪০০-এ নামিয়ে আনাসহ চারটি শর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে ২০০৭ সালে কোম্পানি করা হয়। ওই সময় স্বেচ্ছা-অবসর স্কিমের আওতায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী বিমানের জনবল কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনও কার্যকর জনবলকাঠামো তৈরি করা যায়নি। নেই কোনও অনুমোদিত চাকরিবিধিও। ফলে নিয়োগ, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

এদিকে বিমান  শ্রমিক লীগ (সিবিএ) ২০০৯ সাল থেকে ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। দাবি আদায়ে  মিছিল, মিটিং, সমাবেশ ছাড়াও বিমানবন্দরে ধর্মঘটও করে সংগঠনটি। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি  ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আল্টিমেটাম দেয় বিমান শ্রমিক লীগ। ওইদিন বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকা ভবনে সিবিএ আয়োজিত সমাবেশে সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চাকরি স্থায়ী না করলে আন্দোলনে যাওয়ার ডাক দেন। পরবর্তী সময়ে বিমান ম্যানেজমেন্টর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে সিবিএ।

তবে প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামে ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের স্থায়ীকরণে সুনিদিষ্ট কোনও প্রস্তাব নেই। একাধিক সাব কমিটির প্রস্তাবে একেক রকম সুপারিশ রয়েছে।  তবে তাদের বেতন-ভাতা, জীবন বীমাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিমান শ্রমিক লীগের (সিবিএ)  সভাপতি মশিকুর রহমান  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, কর্তৃপক্ষ তাদের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন করবে। পুরনো অর্গানোগ্রামে  বিমানে ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের জন্য পদ ছিলে না। এখন নতুন অর্গানোগ্রামের মাধ্যমে  ক্যাজুয়াল শ্রমিক ও কর্মচারিদের স্থায়ীকরণ হবে বলে আমরা আশা করি।’ তবে ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণ না হলে দাবি আদায়ে ফের আন্দোলনে নামাবেন বলেও জানান তিনি।  অর্গানোগ্রাম প্রসঙ্গে জানতে যোগযোগ করলে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ।