নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করা হয় না: টিআইবি

ড. ইফতেখারুজ্জামান (ফাইল ছবি)নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো ইশতেহারে যে অঙ্গীকার করে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি লক্ষ করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে রাজনৈতিক দলগুলো ইশতেহারের মাধ্যমে তাদের অঙ্গীকার প্রকাশ করে। যা দেখে জনগণ তাদের ভোট দেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করা হয় না। যা অনেকটা কাগজে নিয়মে পরিণত হয়। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসন ও শুদ্ধাচার’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তবায়নের ব্যাপক ফারাক রয়েছে। সেটা অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য। ইতোমধ্যে ইতিবাচক অর্জন অনেক হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুদৃঢ় করার জন্য আইনি কাঠামো আগের থেকে অনেক সুদৃঢ় হয়েছে। অঙ্গীকারের বিপরীতে বাস্তবায়নে যেমন ঘাটতি রয়েছে, তেমনি যেসব আইন হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নেও ঘাটতি রয়েছে।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন গত ১০ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তবে যা কিছু হয়েছে তা সবই কাগজে। তথ্য অধিকার আইন বিরাট যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ। কিন্তু এটার সম্পূর্ণ পরিপন্থী আইনও করা হচ্ছে।’

রাজনৈতিক দলে নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়া অনেকটা একই রকম। নির্বাচনের আগে দলের নির্বাচনি কমিটির অধীনে সাব-কমিটি গঠন করা হয়, যার ওপর থাকে নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির দায়িত্ব। সাব-কমিটি খসড়া ইশতেহার তৈরি করে এবং তা নিয়ে কমিটিতে আলোচনা করে। দলের সভাপতি তা সংশোধন ও চূড়ান্ত করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।’

গবেষণায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, গণফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসন ও শুদ্ধাচারের জন্য কী কী অঙ্গীকার করেছে তা তুলে ধরা হয়েছে।

সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। যেখানে স্বাধীনতার আগের নির্বাচনে (১৯৭০) মূল অঙ্গীকার ছিল সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সেখানে ১৯৭৫ সালের পর থেকে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং আরও পরে ১৯৯০ এর দশকে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও একে কার্যকর ও শক্তিশালী করা, সংসদ সদস্যদের কার্যক্রম আরও দায়বদ্ধ ও স্বচ্ছ করার অঙ্গীকার লক্ষ্য করা যায়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ দলের অনেক অঙ্গীকার থাকলেও সেগুলো বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনও কোনও অঙ্গীকার পূরণ করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গীকার, যেমন- কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা, ন্যায়পাল নিয়োগ, কালো আইন বাতিল, জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ, রাষ্ট্রায়ত্ত রেডিও ও টেলিভিশনের স্বায়ত্বশাসন ইত্যাদি কখনওই পূরণ করা হয়নি। অন্যদিকে, বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করার মতো বিতর্কিত বা নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।