পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়,সরকারি প্রশাসনে প্রত্যেক ক্যাডারের নিজস্ব একাডেমি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা প্রতিপালন করতেই ‘বিসিএস ইকোনোমিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
সূত্র জানায়, প্রকল্প যথাযথভাবে প্রণয়ন,পরিকল্পনামাফিক সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর পরিবীক্ষণের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের যথার্থ সুফল প্রাপ্তির জন্য ইকোনোমিক ক্যাডার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের ইকনোমিক ক্যাডার কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত জনবলকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর যথাযথ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদের পেশাদারি মনোভাব বাড়বে এবং দক্ষতা উন্নয়ন করার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মূল প্রকল্পের পুরোটাই সরকারের অনুদানে। ২০১০ সালে এই প্রকল্পের জন্য ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা অনুমোদন করা হলেও প্রস্তাবিত জায়গা তিন বার পরিবর্তন হওয়া এবং মামলাজনিত কারণে চার দফায় চার বছর এর ব্যয় (জুন ২০১৬ পর্যন্ত) বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটির ১ম সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী ১৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ৩১ মে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।
পরিকল্পনা বিভাগ সূত্র জানায়, ১ম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ ব্যয় গণপূর্ত অধিদফতরের ২০১৪ সালের রেট শিডিউল অনুসারে প্রাক্কলন করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে গণপূর্ত অধিদফতরের রেট শিডিউল পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে নতুন শিডিউল কার্যকর হয়েছে। গণপূর্ত অধিদফতরের সর্বশেষ রেট শিডিউল অনুসারে ভবনের ব্যয় প্রাক্কলন করায় এবং নির্মিতব্য একাডেমিক ভবনের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবন নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটির ২য় সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে।
জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় ২টি বেইজমেন্টসহ ১৩ তলা ভিত বিশিষ্ট ১৩ তলা (বেইজমেন্টসহ ১৫ তলা) একাডেমি ভবন নির্মাণ করা হবে। একাডেমির জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও যানবাহন সংগ্রহ করা হবে। এবং কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে যুগোপযোগী ও আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ ম মুস্তফা কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যুগোপযোগী, প্রায়োগিক ও নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিসিএস (ইকনমিক) ক্যাডার কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তারা গবেষনার সুযোগ পাবেন। এতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।