নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি ত্বরান্বিত করা নিয়ে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহিংসতা রোধসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নারীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং জীবন ও জীবিকার সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে।’

লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিল অব উইমেন লিডার্সের সভাপতি দালিয়া গ্রাইবোস্কাইত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ সময় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যে নারীর ক্ষমতায়নের ফলে অর্থনীতিতে এর উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লিঙ্গ সমতার প্রভাব শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিফলিত হয়, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় এবং প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়।’

নারীর বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বেকার। বিশ্বব্যাপী ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী কর্মজীবী। অপরদিকে একই বয়সসীমার কর্মজীবী পুরুষ প্রায় ৭৫ শতাংশ।’ একই কাজের জন্য নারীদের পুরুষদের থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কম অর্থ দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমবাজারে লিঙ্গবৈষম্য হ্রাস করতে পারলে তা ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বের মোট প্রবৃদ্ধিতে ১২ থেকে ২৫ শতাংশ যোগ করবে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘কাউকে পিছিয়ে রাখবো না’ এমন উপলব্ধি ছাড়া লিঙ্গ সমতা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে না।

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি শুধু নারীর ক্ষমতায়নই নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজে নারীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও নীতিনির্ধারণের মতো জায়গায় লিঙ্গবৈষম্য হ্রাস করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান সংসদে ৭২ জন নারী সদস্য রয়েছে। স্পিকার, সংসদ নেতা, উপনেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা সকলে নারী।’

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘লিঙ্গ সমতা দূর করার দিক থেকে বাংলাদেশ এশিয়ায় দ্বিতীয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীরা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিতে পারছে এবং তারা ক্ষুদ্র আকারে কিছু সঞ্চয় করারও সুযোগ পাচ্ছে।’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশি নারী ইতিহাস সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষি, সেবা ও শিল্প খাতে দুই কোটি নারী কাজ করছে। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উচ্চপদে নারীরা অধিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশি নারী ইতিহাস সৃষ্টি করছে।’
সূত্র: বাসস