প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, যানজট নিরসনে ২০০১-০২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট’প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০টি সড়ক মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্পের মাধ্যমে এই সিগন্যাল বাতিগুলো স্থাপন করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু নানা ধরনের ত্রুটির কারণে নির্মাণ শেষে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। এতে যে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া আছে তার সঙ্গে বাস্তব যানবাহনের পরিসংখ্যানের কোনও সামঞ্জস্য ছিল না। সে কারণে বেশ কয়েকবার পরীক্ষামূলক চালু করার পর সফলতা না পাওয়ায় তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
২০০৮ সালের শেষের দিকে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। সে সময় উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও ভেঙে পড়ে। শহরে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে কিছু সময় পরই কাউন্টডাউন বন্ধ করে আগের মতো হাত দিয়ে সিগন্যাল ব্যবস্থায় ফিরে যায় ট্রাফিক পুলিশ। পরে ২০১০ সাল থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির দ্বিতীয় দফায় অর্থায়ন করা হয়। মেয়াদ শেষ হয় ২০১৪ সালের জুনে। কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রকল্পটির সফলতা পায়নি নগরবাসী।
ঢাকার রাস্তায় অসহনীয় যানজট কমাতে ট্রাফিক সিগন্যাল ইন্টারসেকশনে ‘কাউন্টডাউন টাইমার’বসায় ঢাকা সিটি করপোরেশন। সড়কে বর্তমানের চেয়ে অন্তত ১০ ভাগ ট্রাফিক মোবিলিটি (সচলতা) বৃদ্ধি, ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ কমানোসহ ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কোন ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি কতক্ষণ থামবে তা ওই সিগন্যালের পুলে স্থাপিত কাউন্টডাউন টাইমার নির্দেশ করবে। সে অনুযায়ী চলবে ট্রাফিক সিগন্যাল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে এই ব্যবস্থাটি চালু করতে পারেনি পুলিশ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক অবস্থায় দু’টি ইন্টারসেকসন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দু’টি হচ্ছে বাংলামোটর ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ দু’টি ইন্টারসেকশনের ডায়াগ্রামের পরিবর্তন আনা হবে। এরপর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। সফলতা আসলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এ কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে বাকি ৬০টি ইন্টারসেকশনে এই রিমোট কন্ট্রোল অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগনাল ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের ‘ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন’ সংক্রান্ত এক সভায় সিটি করপোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ট্রাফিক সিগন্যালে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগনাল ব্যবস্থাপনা পুলিশকে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়। সভার রেজুলেশন অনুযায়ী, শহরের ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে রিমোট কন্ট্রোল অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগন্যাল চালু করতে হবে। এজন্য পরবর্তী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিএনসিসি ও ডিএমপিকে সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ের মধ্যে সংস্থা দু’টি বিষয়টি কার্যকর করতে পারেনি। পুরো ব্যবস্থাপনাটি একটি প্রকল্পের আওতায় থাকায় প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশ থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করতে সময় লেগে যায়।
তবে সিটি করপোরেশন বলছে, পুরো প্রক্রিয়াটি তারা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত থাকলেও পুলিশ এখনও পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত নয়। কারণ স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য ট্রাফিক পুলিশের কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল নেই। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাব পাস হওয়ার পর তারা পুরোপুরিভাবে সিস্টেমটি গ্রহণ করতে আগ্রহী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে আমার বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের উপপরিচালক (সক্ষমতা বিকাশ) মোহাম্মদ আলী নেওয়াজ রাসেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগন্যাল বাতিগুলো রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনাসহ ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছে।’