বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বেলজিয়াম পার্লামেন্টের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস প্রেসিডেন্ট মি. শিকফ্রেড ব্রেক-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তিনি মি. শিকফ্রেড ব্রেকের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় তারা বাংলাদেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের জনসংযোগ দফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে স্পিকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক ও মানবিক সব সূচকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভূতপূর্ব। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত উন্নত দেশে পরিণত হবে।’
ড. শিরীন শারমিন আরও বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টায় নারীর এ অগ্রযাত্রা মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
দেশে নারীর অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী, সংসদ উপনেতা ও বিরোধীদলের নেতা সবাই নারী। জাতীয় সংসদে সর্বমোট ৭৩ জন নারী সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক, বিচার বিভাগীয় ও সামরিক বাহিনীতে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও ব্যবসা বাণিজ্যেও নারী উদ্যোক্তাদের অবদান আজ দৃশ্যমান। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়েছে জেন্ডার সমতা।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশে আজ শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পসহ তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বৈষম্য কমিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলস্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগ যুব শ্রেণি। এই যুব শক্তিকে মানবসম্পদে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমন্বিত পরিকল্পণা গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে, শিক্ষা ক্ষেত্রে ও দারিদ্র বিমোচনে সরকার সফলতার সাথে কাজ করছে – যেখানে সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন।’
বৈঠকে বেলজিয়ামের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস প্রেসিডেন্ট শিকফ্রেড ব্রেক বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রশংসনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে বেলজিয়ামে প্রবীণ জনগোষ্ঠী অধিক হওয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা চাপ সৃষ্টি করেছে।’ এসময় তিনি বাংলাদেশে যুবসমষ্টির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে শিকফ্রেড ব্রেক বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউরোপিয় ইউনিয়নের মাধ্যমে বেলজিয়াম ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। এ বিষয়ে বেলজিয়াম বাংলাদেশের পাশে আছে ও থাকবে।’
এসময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী এমপি ও বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্পিকার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টারি ডেলিগেশন ফর রিলেশনস উইথ কান্ট্রিস অফ সাউথ এশিয়া-এর চেয়ার পারসন মিজ জেন ল্যাম্বার্ট এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি জলবায়ু বিষয়ে পারষ্পরিক সহযোগিতা ও অংশিদারিত্বমূলক ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করতে এশিয়া-ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টারি পার্টনারশিপ (আসেপ)শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।