সিনহাকে আদালতের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে আদালতের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সফটওয়্যার ও অ্যাপস উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

আনিসুল হক বলেন, ‘তার (এস কে সিনহা) ইচ্ছাগুলো ব্রোকেন ড্রিমের মাধ্যমে পূরণ করতে পারেননি বলেই উনি আহাজারি করছেন। সেসব বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। তার যে এই দেশের প্রতি কোনও আনুগত্যবোধ নেই, সেটাই বোঝা যাচ্ছে। তার কারণ হচ্ছে, যেসব কথা তিনি বলছেন সেসব কথা আগে দেশে থেকেও বলতে পারতেন। কিন্তু সেগুলো যেহেতু সবই মিথ্যা তাই তিনি সেসব কথা দেশের বাইরে গিয়ে বলছেন। এতে এটা পরিষ্কার হলো তিনি এসব কথা বলছেন বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে হবে।’

আরপিও সংশোধনীর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আরপিও সংশোধনীর জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে তা আমরা পেয়েছি। এগুলো দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি ১২টি বিলে স্বাক্ষর করেছেন কিন্তু সেখানে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ছিল না। তাহলে আইনটি কী সংশোধনী করা হচ্ছে?’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে আমরা যে বৈঠক করেছি সেখানে বলেছি এবং আজও বলছি, আগামী মন্ত্রিপরিষদ সভায় এডিটরস কাউন্সিল থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা উপস্থাপন করা হবে।’

এর আগে দরিদ্র ও নির্যাতিত অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদানে সফটওয়্যার ও অ্যাপস উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও টোল ফ্রি কলসেন্টার সার্ভিসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা প্রদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে আইন সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি একসময় স্বপ্ন ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে স্বপ্নের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। এর ফলে ঘরে বসেই মানুষ বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ লাভ করছেন।’

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উপ-পরিচালক আবেদা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ জহিরুল হক, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (জাটি) মহাপরিচালক ও সাবেক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক জাফরোল হাছান প্রমুখ।