পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারসহ ১৫ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ২১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৮ হাজার ৪৭৯ কোটি ২২ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৪৪৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ২৯০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা খরচ করা হবে।
মঙ্গলবার (০২ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী বাহাদুরবাদের দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র হতে উৎপন্ন হয়ে জামালপুর এবং ময়মনসিংহ জেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীটির ২২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে ১০০ মিটার প্রস্থ ব্যাপী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ৩ মিটার গভীর করে নৌপথটি ক্লাস-২ নেভিগেশনাল রুটে উন্নীত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ধরলা একটি সীমান্ত নদী যা প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মপুত্রের উপ-নদী। নদীটি হিমালয়ের দক্ষিণ সিকিম থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে এবং লালমনিরহাট জেলা দিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। নদীটি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদীতে পতিত হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় ধরলা নদীর সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটারেই ৩৮ মিটার প্রস্থব্যাপী ড্রেজিং করা হবে। দিনাজপুর সেতাবগঞ্জের একটি বিল হতে উৎপন্ন তুলাই নদীটি ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে টাঙ্গন নদীর ভারতীয় অংশে মিলিত হয়েছে। এ নদীর ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যেই ৩৮ মিটার প্রস্থব্যাপী ড্রেজিং এর মাধ্যমে ১ দশমিক ৫ মিটার গভীর করে নৌপথটি ক্লাস-৪ নেভিগেশনাল রুটে উন্নীত করা হবে।
পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র, ধরলা,তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এছাড়া কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন (১ম পর্যায়) (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পটিতেও অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ২ হাজার ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এছাড়াও হাটহাজারী-ফটিকছড়ি-মানিকছড়ি-মাটিরাঙ্গা-খাগড়াছড়ি সড়ক উন্নয়ন (চট্টগ্রাম অংশ) প্রকল্প নামে আরেকটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে খরচ হবে ৩৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, গৃহীত ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর-ভেতরবন্দ-নাগেশ্বরী মহাসড়কের দুধকুমার নদীর ওপর সোনাহাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পে খরচ বরাদ্দ করা হয়েছে ২৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পটিও একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। গৃহীত সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ঘাটে গুঁড়ো দুধ কারখানা স্থাপন প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
এছাড়াও গৃহীত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প, এর খরচ ধরা হয়েছে ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মেঘনানদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার সদর উপজেলাধীন রাজাপুর ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন রক্ষার্থে তীর সংরক্ষণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, এর খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, এর খরচ ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আরওএসসি)- দ্বিতীয় পর্যায় (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৬৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ-এর অধিকতর উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০২ কোটি ৭২ লাখ টাকা।