সূত্র জানায়, প্রকল্পের প্রাক্কলন এবং ডিপিপি প্রণয়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ, গণপূর্ত অধিদফতর ও স্থাপত্য অধিদফতর থেকে প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি ২০১৭ সালের ২২ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত জার্মানি সফর করে। এরই ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া ‘জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় বার্লিনে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। সূত্র জানায়, জার্মানির ১০৭৮৫ বার্লিন, টিয়ার গার্ডেন এরিয়া, ক্যাডাস্ট্রাল ডিস্ট্রিক ০০৮, ক্যাডাস্ট্রাল ইউনিট ৪১৩৭ এই ঠিকানায় নির্মিত হবে কমপ্লেক্সটি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বর্তমানে ৭৪টি দেশে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসি অফিস বা মিশন আছে। প্রাথমিকভাবে ভাড়া করা বাড়িতে মিশনগুলোর কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যেসব রাষ্ট্রে বাংলাদেশের চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা নির্ধারণ করে স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইনভিত্তিক একটি বৃহৎ প্রকল্প প্রণয়ন করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের আলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জমি থাকা সাপেক্ষে নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ প্রেক্ষাপটে দূতাবাসগুলোতে কূটনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগুলোকে তিনটি পর্যায়ে (১ম পর্যায় ২০১৬-২০১৮, ২য় পর্যায় ২০১৯-২০২১ এবং ৩য় পর্যায় ২০২২-২০২৪) বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে।
জানা গেছে, জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুষ্ঠু কাজের ও বসবাসের উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি, বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের জন্য সুষ্ঠু আবাসন সুবিধাদি সৃষ্টি, দূতাবাসের কাজকর্ম পরিচালনায় বর্তমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো সুবিধা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় দুই হাজার ১৮৫ বর্গমিটার আয়তনের চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে ৮৭০ বর্গমিটার আয়তনে হাইকমিশনারের আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সেখানকার দূতাবাসের কার্যক্রমে গতি আসবে। এছাড়া বাংলাদেশের নিজস্ব জমিতে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মিত হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের সম্মানও বাড়বে।