নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান শুক্রবার (৫ অক্টোবর) আশুলিয়া ল্যান্ডিং স্টেশন প্রাঙ্গণে নদীর সীমানা পিলার, ওয়াকওয়ে, ইকোপার্ক এবং জেটি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘নদী বাংলাদেশের প্রাণ। নদী হারিয়ে গেলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না।’ নদী রক্ষায় এবং এর দখল ও দূষণ রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি ৪৪ হাজার ৭৮৩ মিটার ব্যাংক প্রটেকশন, ১ হাজার মিটার কি-ওয়াল, ১৯টি আরসিসি স্টেপসহ আরসিসি জেটি, তিনটি ইকোপার্ক এবং ১০ হাজার ৮২০টি সীমানা পিলার নির্মাণ করবে। এজন্য ব্যয় হবে ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চার বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।
এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা নদী বন্দরের অন্তর্ভুক্ত রামচন্দ্রপুর থেকে বসিলা পর্যন্ত ৩.৫৫, রায়ের বাজার খাল থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৪.৪৫, হাসনাবাদ-কাওটাইল ৮.৩৫, সদরঘাট থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত এক কিলোমিটার, ফতুল্লা-ধর্মগঞ্জ ৩.৫০, টঙ্গি নদী বন্দরের আওতায় বাতুলিয়া উজানপুর ৩.৭২৫, পাগার মৌজা-হারবাইদ ৩.০৬৮ আশুলিয়া কামারপাড়া (ঢাকা প্রান্ত) ৩.৫৬, আশুলিয়া-কামারপাড়া (গাজীপুর প্রান্ত) ৩.৭৫০, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের আওতায় ডিইপিটিসি এলাকা ২.৫০, নারায়ণগঞ্জ সাইলো হতে কুমুদিনী ৮.৫৫ এবং সুলতানা কামাল-কাঁচপুর সেতু এলাকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সর্বমোট ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ঢাকার চারপাশে ১১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বৃত্তাকার নৌপথ রয়েছে। এর আগে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের অধীনে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে এবং ঢাকার শ্যামপুরে ও নারায়ণগঞ্জে দু’টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন, প্রকল্প পরিচালক নুরুল আমিনসহ অনেকে।