সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের কোটা বহালের দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ।’ দাবি না মানা হলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির পর বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. আলী হোসাইন বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই আমরা বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। এখন যদি এই কোটাও বাদ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কীসের আশায় বাঁচব? যেখানে আইন পাস করে আমাদের এই অধিকার সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে, সেখানে কেন আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা সাত দফা দাবি পেশ করেন। তাদের দাবিগুলো হলো- ১. প্রতিবন্ধী কোটা এক শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে পাঁচ শতাংশ করতে হবে। ২. তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরিতে এতিমদের পৃথক করে শুধু প্রতিবন্ধীদের জন্য দশ শতাংশ কোটা রাখতে হবে।
৩. চাকরির পরীক্ষায় প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত দশ মিনিট প্রদান করতে হবে। ৪. বেসরকারি খাতে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৫. সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৭ বছর করতে হবে। ৬. শ্রুতি লেখকের অনুমতি প্রদান করতে হবে। ৭. তীব্রমাত্রায় প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে।
এ সময় তারা মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমের পদত্যাগের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কথা বলার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থাকলেও প্রতিবন্ধীদের জন্য নেই কোনও মন্ত্রণালয়। তারা প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের জোর দাবি জানান।
আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন থাকায় তারা তাদের অবস্থান কর্মসূচি আগামীকাল শনিবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৩টা পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
কোটা বহাল আন্দোলনের আরও খবর: প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান