বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮-তে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। গত মাসের শুরুতে আইনটির খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে আজ সোমবার (৮ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয় সচিবালয়ে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এই ব্রিফিং করেন।
সচিব জানান, শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। তখন এই আইনের ৯০টি ধারা সংশোধন করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে সংশোধনের মাধ্যমে এটিকে আরও যুগোপযোগী এবং শ্রমবান্ধব করা হয়েছে। এই আইনে ৩৫৪টি ধারা রয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাবে দুটি ধারা, চারটি উপধারা, আটটি দফা সংযোজন করা হয়েছে। ৬টি উপধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। ৪১টি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই আইন পাস করা হতে পারে বলেও জানান সচিব।
এই আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে কর্মরত অবস্থায় কোনও শ্রমিক মারা গেলে দুই লাখ টাকা এবং দুর্ঘটনায় স্থায়ীভাবে পঙ্গু হলে আড়াই লাখ টাকা দিতে হবে। আর কোনও শ্রমিক সংগঠন বিদেশ থেকে চাঁদা আনলে তা সরকারকে অবহিত করতে হবে। শ্রমিক সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন ৬০ দিনের পরিবর্তে ৫৫ দিনের মধ্যে করতে হবে। শ্রমিকদের কল্যাণে যেকোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকার, মালিক ও শ্রমিক এই ত্রিপক্ষীয় পরিষদ করার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইনের উল্লেখযোগ্য সংশোধনের প্রস্তাবগুলো হলো, নারী শ্রমিদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১৬ সপ্তাহ হবে। সন্তান প্রসবের আট সপ্তাহ আগে এবং আট সপ্তাহ পরের সময় ছুটি দিতে হবে। নিয়মিত ছুটির বাইরে এই ছুটি দিতে হবে। কোনও কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ২০ শতাংশের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে। এর আগে ৩০ শতাংশ লাগতো। ১৪ বছর বয়সের নিচে কোনও শিশুকে কোনও কারখানায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ১৪ বছরের নিচে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে মালিকের ৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের কারখানায় শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। কারখানায় নারী শ্রমিকরা ৮ সপ্তাহের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। এর ব্যত্যয় হলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কোনও নারী শ্রমিক সন্তানসম্ভবা হলে তার প্রমাণ পেশ করার ৩ দিনের মধ্যে ছুটি দিতে হবে। ৫১ শতাংশ শ্রমিকের অনুমতি সাপেক্ষে ধর্মঘট করা যাবে। যেকোনও শ্রম আদালতে ৯০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে। না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অবশ্যই করতে হবে। এই ১৮০ দিনের মধ্যেও যদি নিষ্পত্তি না হয় তাহলে বাকি পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবে।
আরও পড়ুন- ইয়াবা বহনের সাজা মৃত্যুদণ্ড