পণ্যপরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

পণপরিবহন ধর্মঘট (ফাইল ছবি: ইন্টারনেট থেকে)৭ দফা দাবিতে ডাকা চলমান পণ্যপরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। মঙ্গলবার (০৯ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তাদের ডাকা ধর্মঘট স্থগিত করেন। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির।

গত রবিবার (৭ অক্টোবর) থেকে ঢাকা বিভাগের ১৭ জেলায় সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আন্দোলনরত পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সাত দফা দাবির বিষয়ে বিস্তারিত শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতাদের সঙ্গে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মকবুল আহমদ, সদস্য সচিব মো. তাজুল ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তাদের কথা শুনেছি। তাদের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সঙ্গে। আমার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হবে না।’ 

ধর্মঘট প্রত্যাহার প্রসঙ্গে  বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আইনমন্ত্রীমন্ত্রী ও সড়কপরিবহনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের দাবির বিষয়ে সমাধান দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’

প্রসঙ্গত, ৭ দফা দাবিতে গত রবিবার (৭ অক্টোবর) থেকে ঢাকা বিভাগের ১৭ জেলায় সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবিগুলো হচ্ছে—সড়ক পরিবহন আইনানুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ না করা, ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল x জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা। সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য হাসমত আলীসহ যেসব মালিক-শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মুক্তি, সহজ শর্তে ভারী লাইসেন্স দেওয়া, এর আগপর্যন্ত হালকা বা মধ্যম লাইসেন্সের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া। এছাড়া পুলিশি হয়রানি বন্ধ, গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাক টার্মিনাল বা স্ট্যান্ড নির্মাণ, গাড়ির মডেল বাতিল করলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।

জরিমানা মওকুফ করে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া। সারাদেশে গাড়ির ওভারলোডিং বন্ধ করা।  জনসাধারণের চলাচলের জন্য ফুটপাত, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা ও জনসচেতনতার জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।