‘অধ্যাদেশে আরপিও সংশোধন হতে পারে’

নির্বাচন কমিশন

রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব তিনি  কথা বলেন।

আরপিও সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, চলতি সংসদে আরপিও না উঠলে অধ্যাদেশের মাধ্যমেও এটি পাস করা হতে পারে। পরে পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনে এটি পাস করা হবে। তবে আমরা আশাবাদী চলতি সংসদেই এটি উঠবে।

জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিভাবে ব্যবহার করা হবে বা আদৌ হবে কি না তা এই অধ্যাদেশের সংশোধনীর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।  একইসঙ্গে নির্বাচনি ম্যানুয়াল তৈরির দিক-নির্দেশনাও থাকবে এই সংশোধনীতে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের অন্যান্য প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হলেও আরপিও সংশোধন না হওয়ায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত ও নির্বাচনি ম্যানুয়াল তৈরি করতে পারছে না সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ফলে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

আরপিও সংশোধনের চিন্তা থেকে সরে এসে গত জুনের দিকে নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনি সামগ্রী ক্রয়সহ যাবতীয় কাজ গুছিয়ে এনেছিল। কিন্তু গত আগস্টে ইসির অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। হঠাৎ করে ইসি সিদ্ধান্ত নেয় আরপিও সংশোধন করে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান যুক্ত করার। সে অনুযায়ী একজন কমিশনার আপত্তি জানালেও, গত ৩০ আগস্ট ইভিএম যুক্ত করে আরপিও এর সংশোধনী অনুমোদন করে ইসি। তা ভেটিংসহ আইনে পরিণত করতে আইন মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর মন্ত্রিসভার তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনও তা মন্ত্রিসভায় ওঠেনি। ফলে, সংসদের ২২তম অধিবেশনে এটা উত্থাপন বা পাস করা সম্ভব হয়নি।

তবে ইসি আশাবাদী জাতীয় সংসদের চলতি মেয়াদের শেষ অর্থাৎ ২৩তম অধিবেশনেই আরপিও সংশোধনের বিলটি উত্থাপন করা হবে। এই মেয়াদে এটি পাস করা সম্ভব না হলে সংসদের জন্য অপেক্ষা না করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে করারও সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।