তিন কারণে সরকারি পাটকলগুলোর লোকসান



জাতীয় সংসদ (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রতি বছর লোকসানের কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির মতে, শ্রমিকদের মজুরি কাঠামোতে বৈষম্য, অপ্রচলিত মেশিনারিজ দিয়ে পণ্য উৎপাদন, তহবিলের অভাবে সময়মতো পাট ক্রয় করতে না পারার কারণে প্রতিবছর লোকসান দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আলোচনায় বিজেএমসির লোকসানের এই কারণগুলি চিহ্নিত হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সাবিনা আক্তার তুহিন অংশ নেন।

বৈঠকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পাটের ‘সোনালি ব্যাগ‘ প্রকল্পবিষয়ক চুক্তিসহ সব লিগ্যাল ডকুমেন্ট চূড়ান্তকরণ এবং ৯ মাসের মধ্যে ‘সোনালি ব্যাগ’ মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করার সুপারিশ করা হয়।

এদিকে তাঁত শিল্পের পূর্ণ বিকাশে চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্যকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রাজশাহী সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবনাকে সমন্বয় করে একটি যুগোপযোগী বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বৈঠকে প্রকল্প প্রস্তাবটি আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার জন্য বাংলাদেশ রেশম বোর্ডের প্রতি সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে বিটিএমসি-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মিলের সংখ্যা ২৫টি যার মধ্যে ভাড়ায় চালিত ৮টি এবং বন্ধ ১৭টি। বিটিএমসির ১৮টি মিলের জনবল দিয়ে ২৫টি মিলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং ১৯৯৩ সাল থেকে অদ্যাবধি ৩৬১ জন দৈনিকভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত আছে। বৈঠকে বিটিএমসি-এর অস্থায়ী দৈনিক ভিত্তিক নিয়োগের ব্যাপারে সাময়িক অনুমতি দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বর্তমান স্থায়ী কমিটির ৩৪টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে মোট ১২৫টি সুপারিশ/সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, যার মধ্যে ৯১টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৩৪টি বাস্তবায়নাধীন আছে। স্থায়ী কমিটির ৩৪টি সভায় গৃহীত সুপারিশ/সিদ্ধান্তের ফলে মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দফতর/সংস্থার ভিশন, মিশন, কার্যক্রম এবং চ্যালেঞ্জগুলো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ও গতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।