দেশে বিপজ্জনক মৎস্য প্রজাতির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জাতীয় সংসদে ‘মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিল ২০১৮’ পাস হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ রবিবার (২৮ অক্টোবর) বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি গত ২১ অক্টোবর সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে সেটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
মাছ আমদানির সময় কোনও ক্ষতিকারক জীবাণু যাতে না আসে, তা ঠেকাতে এই নতুন আইনটি পাস করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে একটি সঙ্গনিরোধী কর্তৃপক্ষ হবে, মৎস্য অধিদফতর এই দায়িত্ব পালন করবে।
অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে মৎস্যের রোগ-জীবাণু অনুপ্রবেশ ও বিস্তার রোধকল্পে মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদির আমদানি নিয়ন্ত্রণ করাসহ কর্তৃপক্ষকে ১০টি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি আপিল করতে পারবে, যা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
পাস হওয়া বিলে মৎস্য বলতে সব ধরনের কোমল ও কঠিন অস্থিবিশিষ্ট মাছ, স্বাদু ও লবণাক্ত পানির চিংড়ি, উভচর জলজ প্রাণী, কচ্ছপ, কুমির, কাঁকড়া জাতীয় প্রাণী, শামুক বা ঝিনুক জাতীয় জলজ প্রাণী, ব্যাঙ বা সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঘোষিত জলজ প্রাণীকে বোঝাবে।
বিলে অনুমতি ছাড়া মৎস্যপণ্য আমদানি করলে সর্বনিম্ন একবছর ও সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের গুণগতমান বজায় রাখা ও মৎস্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য অননুমোদিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিদেশ হতে বিপজ্জনক কোনও প্রজাতির মৎস্য, রেণু, পোনা, পিএল বা মৎস্য পণ্য দেশের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ রোধ ও উচ্চ উৎপাদনশীল মৎস্য প্রজাতি, মানসম্পন্ন মৎস্যপণ্য ও উপকারী জীবানু আনয়নের ক্ষেত্রে অনুমোদনও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বিধি-বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজন মর্মে প্রতীয়মান হয়।