ইইউ রাষ্ট্রদূত বলে, ‘আমাদের সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে রাজনৈতিক সম্পর্কে পৌঁছেছে। আমাদের উচিত, এটিকে আরও উচ্চস্তরে নিয়ে যাওয়া। যেমন, কৌশলগত সম্পর্ক।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-ইইউ’র সম্পর্ক ১৯৭৩ থেকে শুরু। তখন থেকে তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও সুশাসনের জন্য সহায়তা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার ইইউ’র দেশগুলো। ইইউ-এর বাজারে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা ভোগ করে।
রেনসজে তেরিংক বলেন, ‘কৌশলগত সম্পর্কের জন্য একটি স্থিতিশীল দেশ ও সরকার দরকার। আমরা নির্বাচনের পর কী পরিস্থিতি দাঁড়ায়, সেটি দেখার অপেক্ষায় আছি।’ তার মতে, স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপরে তারা ইইউ-এর বড় এজেন্ডাগুলো যেমন গণতন্ত্র, সুশাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও তিনি জানান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ অত্যন্ত ভালো কাজ করছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে দুই পক্ষেরই কাজ করার দরকার। কারণ, এটি এখন হুমকির সম্মুখীন।’
বাংলাদেশে প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে কাজ করার অনেত সুযোগ আছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘শুধু ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’-এর মাধ্যমে অনেক প্রযুক্তি হস্তান্তর করা সম্ভব। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য ভালো তাই না এটি আমাদের জন্যও ভালো।’ কানেক্টিভিটি ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের অনেক আগ্রহ আছে।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউরোপ-এশিয়া পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইইউ, যার মাধ্যমে এই দুই মহাদেশের মধ্যে ভৌত কানেক্টিভিটি, জ্বালানি কানেক্টিভিটি, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও মানুষে মানুষে কানেক্টিভিটির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হার অত্যন্ত ভালো বলে মনে করেন এই রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘মিশ্র ছবিটি হচ্ছে—সমষ্টিগতভাবে প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে কিন্তু চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।’ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, প্রবৃদ্ধি ধনীদের বেশি সুবিধা দিচ্ছে কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের ধারায় আনতে হবে। কারণ সবসময় ‘ট্রিকল ডাউন’ প্রভাব কাজ করে না। তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অনেক আইন আছে কিন্তু এর বাস্তবায়ন অনেক দুরূহ।’ জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে ইইউ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
বাণিজ্য সম্পর্ক
মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ২০২৭ সাল থেকে বাংলাদেশ আর ইইউ বাজারে জিএসপি সুবিধা পাবে না এবং শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে।
এই অঞ্চলে শ্রীলংকা ও পাকিস্তান এই সুবিধা পায়। বর্তমানে তারা এই প্রক্রিয়াটি পুনঃবিবেচনা করছে, যেটি ২০২০ সাল নাগাদ শেষ হবে। এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এমন কোনও কারণ আছে, যার জন্য বাংলাদেশ এই সুবিধা পাবে না।
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, এই আইনের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং এ বিষয়ে তারা একাধিক স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। কারণ তারা মনে করেন, এর কয়েকটি ধারার অপব্যবহার হতে পারে। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের একটি কৌতূহলজনক আলোচনা হয়েছে, যেখানে আইনমন্ত্রী ছিলেন। তারা, বিশেষ করে আইনমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেছেন, এই আইন নিয়ে এখনও শেষ কথা বলা হয়নি। আইনমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, এখনও নতুন বিষয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে।’
মিডিয়া স্বাধীনতার বিষয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার মনে হয়, কয়টি সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেল কাজ করছে, তার ওপর ভিত্তি স্বাধীনতা বিবেচনা না উচিত নয়।’ বরং করে তারা কী সংবাদ দিচ্ছে, সেটি বিবেচনা করা উচিত বলেও তিনি মনে করেন।