উল্লেখ্য, চিড়িয়াখানার ভেতরে উৎসব দ্বীপ ও নিঝুম দ্বীপ নামক ২টি পিকনিক-স্পটে যথাক্রমে ১০ ও ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে এতদিন যে কেউ দিনব্যাপী বনভোজন করার অনুমতি পেতো। চিড়িয়াখানার পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের কারণে চিড়িয়াখানার লেকে টিকিট কেটে বড়শিতে মাছ মারা বন্ধ অথবা সীমিত করার পরামর্শও দেওয়া হয় উপদেষ্টা কমিটির সভায়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চিড়িয়াখানায় প্রবেশের ফি ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকায় নির্ধারণের পাশাপাশি চিড়িয়াখানার বাইরের গাড়ি-পার্কিংয়ের ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তসহ রিকশা, ভ্যান বা সাইকেলের প্রচলিত পার্কিং পদ্ধতি বাতিল করা হয়।
এছাড়া ১১৫টি কার ও ১০টি মিনিবাসের সংকুলানসম্পন্ন একটি বর্ধিত বহিঃপার্কিং নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় জানানো হয়, ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানাসহ রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নের জন্য 'মাস্টার প্লান স্ট্রাকচারাল ডিজাইন’প্রণয়নসহ ৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যাসহ জনদুর্ভোগ দূর হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় চিড়িয়াখানাটি বিশ্বে অত্যাধুনিক চিড়িয়াখানার কাতারে নাম লেখাতে সক্ষম হবে।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী চিড়িয়াখানার বিনোদনধর্মী উদ্দেশ্য লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এমন সব প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত পরিহার করে জনগণ ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। অত্যাধুনিক চিড়িয়াখানার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিপদ্ধতি বাতিলসহ তাদের বিভিন্ন দেশের উন্নত চিড়িয়াখানা পরিদর্শন মাধ্যমে অভিজ্ঞতার্জনের ওপর জোর দেন।
উল্লেখ্য, চিড়িয়াখানার ভবিষ্যত পরিকল্পনা, সার্বিক উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণের অধিকারী ৩২সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি বছরে দুবার সভার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৪ সালে গঠিত উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠন করে গত ২৪ অক্টোবরে যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়, এটিই তার প্রথম সভা। জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা, প্রাণিবিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এই কমিটি। বর্তমান কমিটির উল্লেখযোগ্য সদস্য হলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, কামাল আহমেদ মজুমদার, আসলামুল হক, ইলিয়াস হোসেন মোল্লাহ, বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব।