আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখানে পৌঁছেছি। ২০০৭ সালের আগে আজকের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসি কিন্তু কমবেশি প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তখন একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে একই সঙ্গে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের কাজ করতে হতো। ফলে বিচারপ্রার্থীদের বিচার পেতে ভোগান্তিতে পরতে হতো। সেজন্য বিচার বিভাগ আলাদা করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের এখন সস্পূর্ণ জুডিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
আনিসুল হক বলেন, ‘মাজদার হোসেনের মামলা দিয়ে কিন্তু বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। ওই সময় জনগণের দাবি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা না করা হলে বিচার ব্যবস্থা ব্যর্থ হবে। সেজন্যই কিন্তু বিচার বিভাগ আলাদা করা হয়েছে। যেন বিচারকরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচারকাজ করতে পারেন।’
বিচারকরা যেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচারকাজ করতে পারে সেজন্য তাদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারকদের বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানো হচ্ছে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তাদের যুযোপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’
সমঝোতা হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব কিনা, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছেন আদালত। তাই তার কারামুক্তির বিষয়ে আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন।’
ঐক্যফ্রন্টের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছানো হবে কিনা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করবে। আমার বিশ্বাস সংবিধানে যেটা আছে, সেই অনুপাতে নির্বাচন কমিশন তার সিদ্ধান্ত নেবে।’
নির্বাচনকালীন সময়ে ঐক্যফ্রন্টের কাউকে সরকারে রাখার সিদ্ধান্ত আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বক্তব্য রাখেন।