সংবাদ সম্মেলনে সাদপন্থী ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়াসহ ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার সারাদেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভিক্টোরিয়া পার্ক মসজিদের ইমাম ও তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা আমানুল হক।
তিনি বলেন, ‘১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ইজতেমার ১ম পর্ব অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইজতেমাকে কামিয়াব করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়। এ কাজ বিভিন্ন কারণে দেরি হয়েছে। ফলে তাবলিগের সাথী ও ঢাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্ররা তিন দিনের জামায়াত করে মাঠে কাজ করছিল। সাদপন্থী ওয়াসিফুল ইসলাম ও নাসিমের অনুসারীরা নিরস্ত্র নিরীহ তাবলিগের সাথী ও মাদ্রাসার ছাত্রদের ওপর লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র, ইট-পাটকেল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রসাশকের ভূমিকা ছিল নীরব ও রহস্যজনক। পুলিশ দাঁড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।’
লিখিত বক্তব্যে আমানুল হক আরও বলেন, হামলায় নিহত হয়েছে মুন্সিগঞ্জের ইসমাইল মন্ডল ও আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বেশ কিছু মাদ্রসার শিশু ছাত্রদের চিত্র দেখানো হয়েছে। তারা টঙ্গী মাঠের ভেতরে অবস্থিত মাদ্রাসার ছাত্র। তারা সেখানে থেকে পড়াশোনা করে। বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করেনি। হামলাকারীরা মাদ্রাসা ভবন, মুরুব্বিদের আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করেছে।
সাদবিরোধীদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে, আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, টঙ্গী ময়দান শুরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলিগে সাথী ও আলেমদের কাছে হস্তান্তর করা, কাকরাইলের সব কার্যকলাপ থেকে ওয়াসিফ ও নাসিমকে বহিষ্কার করা, সারাদেশে তাবলিগের সাথীদের উপর হামলা-মামলা বন্ধ করা এবং আগামী ১৮, ১৯, ২০ জানুয়ারি ইজতেমার করার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাবলিগের সাদবিরোধী অংশের শুরা সদস্য মাওলানা জুবায়ের আহমদ ও মাওলানা ওমর ফারুক। এছাড়া ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতি নূর হুসাইন কাসেমী, হেফাজতের নেতা মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা আবদুল কুদ্দস, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।