আপিলের দ্বিতীয় দিনে আপিলকারীদের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের জাতীয় পার্টির সদ্য বিদায়ীয় মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, বরিশাল-২ আসনের জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্রনায়ক সোহেল রানা, নাটোর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নেত্রকোনা-১ আসনের এমএ করিম আব্বাসী, মেজর (অব.) মনজুর কাদের, গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ। তবে, মঙ্গলবার পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পক্ষে কেউ আপিলের আবেদন করেননি।
এদিকে, মঙ্গলবার প্রার্থীদের আপিল গ্রহণ করা আট বিভাগের ডেস্কগুলো পরিদর্শন করে ইসি কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিলকারীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যা কিছু করবো, তা আইনানুগভাবেই করতে হবে। কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব আমরা অবশ্যই দেখাবো না। প্রতিটি কেসেরই (আপিল) মেরিট আমরা দেখবো। আমি যেটা মনে করি, নির্বাচন কমিশন সব ব্যাপারেই একটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।’
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এগুলো যাচাইয়ের পরে ৭৮৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসাররা। এর ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭৯ জনে।
দেশের ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া দুই হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থীর সংখ্যার মধ্যে বাতিল হয় ৪০২ জনের মনোনয়ন। স্বতন্ত্র হিসেবে দাখিল করা ৪৯৮ জনের মধ্যে ৩৮৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর বৈধ প্রার্থী রয়েছে ১১৪ জন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২৬৪টি আসনে ২৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার বৈধ প্রার্থী ২৭৮ জন, বাতিল ৩ জন। বিএনপির ২৯৫টি আসনে ধানের শীষে ৬৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৫৫৫ জন, বাতিল হয়েছে ১৪১ জন। জাতীয় পার্টি ২১০ আসনে ২৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে বৈধ প্রার্থী ১৯৫ জন, বাতিল হয়েছে ৩৮ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৯৯টি আসনে প্রার্থী দিলেও ২৮১ জনের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে।
অন্যান্য নিবন্ধিত দলের বৈধ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ১২ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি ১৩ জন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল ২ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩২ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৯ জন, গণতন্ত্রী পার্টি ৮ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ১১ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩২ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৩৯ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ৪৪ জন, জাকের পার্টি ৭৩ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৪৩ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ৬ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ২০ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ২২ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ৪০জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ৭৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ১৪ জন, গণফোরাম ৪৪ জন, গণফ্রন্টের ১৪ জন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) ১৪টি, বাংলাদেশ ন্যাপ-৫ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-১১ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ২৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ৫ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ২৩ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিম ৯ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২১ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ৪জন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২৭ জন, খেলাফত মজলিশ ১৩ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ৬ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ৩ জন ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ৫৬ জন।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর, বাছাই ২ ডিসেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।