দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে হওয়া ‘নির্বাচনের ইশতেহার’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন।
কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৮ সালের পর আইআরআই একটি সার্ভে করে। সেখানে ৩১ শতাংশ ভোটার দুই বছর বা তারও আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা কাকে ভোট দেবেন। তিন সপ্তাহ আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৮ শতাংশ ভোটার। আর এক সপ্তাহ আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাত্র ৬ শতাংশ ভোটার। তার মানে ইশতেহারে কী থাকলো, থাকলো না— সেটা আসলে ব্যাপকসংখ্যক ভোটারের মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে না। ভোটারদের যে আচরণ তা অন্যান্য মাধ্যমে নির্ধারণ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ইশতেহারের হচ্ছে একধরনের চুক্তি। জনগণ কিংবা ভোটারদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের একটি চুক্তি, একপ্রকার ওয়াদা, একটা ম্যান্ডেট দিচ্ছে। অর্থাৎ একধরনের ম্যান্ডেট দিচ্ছে যে তারা ক্ষমতায় গেলে এটা করতে দায়বদ্ধ। তার মানে উল্টো করে দেখলে ইশতেহার জবাবদিহিতার হাতিয়ারও বটে।’
এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক বলেন, ‘আমাদের দেশে এই মুহূর্তে একটা বড় সংকট হচ্ছে যারা ক্ষমতাসীন তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে কোনও ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি। যেটা নিয়ে আমরা ভুগছি। অর্থনীতিতে আমাদের তেমন কোনও মতবিরোধ নেই, আমরা বাজার অর্থনীতি সবাই মেনে নিয়েছি। পার্থক্যটা হচ্ছে রাজনীতিতে, আমরা সংসদকে কীভাবে কার্যকর করবো, আমরা স্থানীয় সরকারকে কতটা ক্ষমতাশালী করবো। আমরা অন্যান্য সুশীল সমাজ, তরুণরা আছে তাদের মতামতকে কীভাবে জায়গা দিবো— এসব মেজর বিষয়ে মানুষ কিন্তু তাকিয়ে আছে।’
সাংবাদিক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় কাজী মারুফুল ইসলামসহ এ বৈঠকিতে অংশ নেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন উপ কমিটির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট স্টিয়ারিং কমিটি ও ইশতেহার কমিটির সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান এবং বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার সালমান তারেক শাকিল।
রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এই বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা যায় এ আয়োজন।