প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে এনডিসি গ্রাজুয়েটদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

এনডিসি গ্রাজুয়েটদের কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ (ছবি-বাসস)রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে (এএফডব্লিউসি) অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে আরও অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে এনডিসি ও এএফডব্লিউ কোর্স- ২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে রবিবার (২৩ ডিসেম্বর) তিনি বলেন, ‘আশা করি সদ্য সমাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আপনারা চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখবেন।’
সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস অর্জিত জ্ঞান, ইচ্ছাশক্তি এবং অঙ্গীকারকে সামনে রেখে আপনারা জনগণকে আরও বেশি সেবা দিতে পারবেন এবং দেশকে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ বঙ্গবন্ধু সূচিত এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি পরিচালিত হচ্ছে।
আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ কারণে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও নির্যাতিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। এছাড়া দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নসহ জাতিসংঘ মিশনে অংশ নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। তিনি বলেন, একটি পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব অর্জনের জন্য সদা পরিবর্তনশীল যুদ্ধকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রযুক্তির প্রসার সাইবার ক্রাইমের মাত্রাকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই তথ্যপ্রযুক্তি ও তার অপপ্রয়োগ সম্পর্কেও কর্মকর্তাদের ধারণা থাকা অনস্বীকার্য। একবিংশ শতাব্দীর বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ফোর্সেস-গোল ২০৩০ বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তিন বাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য, সিনিয়র বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র- বাসস