‘৩০ তারিখই শেষ নয়, এরপরও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে’



_71A4958‘আমরা চাই একটা ভালো নির্বাচন হোক। ৩০ তারিখই বাংলাদেশের শেষ নয়, ৩০ তারিখের নির্বাচনে যারাই জিতুক কিংবা যারাই হারুক, তারপরও বাংলাদেশ থাকবে এবং তারপরও বাংলাদেশ এভাবে এগিয়ে যাবে। কারণ, আমাদের পেছনে আছে ১৯৭১ সাল, তার পেছনে যাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। আমরা এই বাংলাদেশেই বাস করতে চাই এবং আমারা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
দেলোয়ার হোসেনদেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ শীর্ষক বৈঠকিতে এসব কথা বলেন দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের যুগ্ম সম্পাদক বিভুরঞ্জন সরকার।
মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়া বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মুন্নী সাহা।
শামসুজ্জামান দুদুবিভুরঞ্জন সরকার আরও বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রকে নির্বাচনের মধ্যে এনে সীমাবদ্ধ করেছি। যার জন্য গণতন্ত্রই সর্বোত্তম নয়, কিন্তু গণতন্ত্রই একমাত্র সেরা, এরকম তো না। কিন্তু আমরা গণতন্ত্রকে কাটতে কাটতে একদিনে ভোটের মধ্যে নিয়ে এসেছি। আমরা কোনও গণতান্ত্রিক নিয়মনীতি মেনে চলি না। আমাদের দলের মধ্যেও গণতন্ত্র নাই।’
ডা. জাহেদ উর রহমানঅনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বলেন, ‘আমি সবাইকে বলবো ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। আপনি যাকেই ভোট দিন না কেন, ভোটকেন্দ্রে যাওয়া খুব জরুরি। এটা যেন খুব বাধাহীনভাবে হয়। সব প্রার্থী আমাদের পছন্দের হবে না, সব দল আমাদের পছন্দের হবে না। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ যাকে চাইবে তাকে একটা সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা আমাদের থাকতে হবে। সব দলকে এখন একটু সহনশীল হতে হবে। সবাইকে মিলে একধরনের সহনশীল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’
বিভুরঞ্জন সরকারজাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সেনাবাহিনী এখন যেভাবে আছে সেভাবে আমরা চাইনি। আমরা সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে বলেছিলাম। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে পরবর্তীতে এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু ন্যূনতম যেটা ছিল ২০০৮ সালে, সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় ছিল, যেটা বাতিল করা হয়েছে। এভাবে সেনাবাহিনী থাকা কোনও ইফেক্টিভ কিছু ছিল না, সেই জায়গায় আমরা আশা প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু সেটা যে কাজ করেনি সেটা প্রথম দিনই স্পষ্ট হয়ে গেছে।’
আরিফ জেবতিকতিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখার প্রতিবাদ আমরা শুরু থেকে করেছি। আমাদের এই চেষ্টাটা ভবিষ্যতে করতে হবে যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া, সেটা করতে পারলে আমরা অন্য কথা বলতে পারি। আমাদের তো অন্য কথা বলার কথা ছিল, আমরা কথা বলছি নির্বাচন হবে নাকি এই বিষয়ে। এখানে সহনশীল থাকার কথা বলা হচ্ছে। যে মার খায়, তার জন্য সহনশীল থাকা কঠিন। ৩০ তারিখে বাংলাদেশ শেষ হচ্ছে না, কিন্তু পৃথিবীতে বহু উদাহরণ আছে যেখানে একটা দিনের ঘটনা ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিতে পারে।’
উদিসা ইসলামবিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতাপূর্ব পাকিস্তান চাই না। স্বাধীনতাপূর্ব পাকিস্তান যেমন আমরা চাই না, তেমনি স্বাধীন ভারত চাই না। বাংলাদেশ বাংলাদেশই। আজকে যে নির্বাচন হচ্ছে এখানে রেফারির দায়িত্বে আছে নির্বাচন কমিশন। আমরা রেফারি চাই, সত্যিকারের রেফারি। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করছে, বিএনপিও নির্বাচন করছে। আমরা একেবারে একটি পরিষ্কার নির্বাচনের দিকে যেতে চেয়েছিলাম বিশ্বাস করে। এত পুরনো একটা দল, গণতান্ত্রিক দল, তাদের যদি বিশ্বাস না করি তো কাদের করবো? আমাদের দলটা একদলীয় নীতিতে বিশ্বাস করে না, আমরা পত্রিকা বন্ধ করায় বিশ্বাসী না। আমরা এক নেতা, এক দেশ নীতিতে বিশ্বাস করি না বলেই আমরা বহুদলীয় রাজনীতির কথা বলি। আমার কাছে মনে হয়েছে ৩০ তারিখ যদি আমরা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হই, আমাদের জন্য বুমেরাং হয়ে যাবে।’
মুন্নী সাহাআওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রথমে বিরোধী দলের অভিযোগ ছিল তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, সব রাজনৈতিক দল কিন্তু নির্বাচনে এসেছে। পরবর্তীতে অভিযোগ করা হচ্ছে আমরা সুযোগ পাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের আস্থা ফিরে আসবে যখন সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে। সেনা মোতায়েন কিন্তু করা হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযোগ, ঐক্যফ্রন্ট নেতারা শুধু অভিযোগ করেই যাচ্ছেন। নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা শুধু অভিযোগ করেই যাচ্ছেন। ঘুরে ঘুরে বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ আসছে কিন্তু পাঁচ-সাতজন প্রার্থীর কাছ থেকে। সারা বাংলাদেশের ৩০০ আসনে আরও প্রার্থী আছে। শুধু বলার জন্য বলা হচ্ছে এখানে অভিযোগ, ওখানে অভিযোগ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরে বিএনপির পলিসি হচ্ছে অভিযোগ করা। সেক্ষেত্রে তারা পোস্টার লাগানো থেকে বিরত থেকেছে। তারা প্রচার থেকে বিরত থাকছে, তারা সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে না, তারা বের হচ্ছেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনে করে যে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচন করবে কিনা। যখন শেষ পর্যায়ে এসে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হুমকি দিতে শুনি, বাংলাদেশের মানুষকে হুমকি দিতে শুনি, গণমাধ্যমের কর্মীদের হুমকি দিতে শুনি, সেক্ষেত্রে আমরা ভয় পাই, কোন পরিস্থিতির দিকে তারা দেশটিকে নিতে চায়!’
বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম বলেন, ‘আমি বলবো উভয় পক্ষকে সহনশীল হতে। কারণ, আমরা অনেকদিন পর একটা নির্বাচন দেখতে যাচ্ছি। আশা করি সবাই শেষ পর্যন্ত থাকবে এবং যারা আশা করছিল এতদিন ধরে ঐক্যফ্রন্টকে ভোট দেবে, তারা যেন দিয়ে আসতে পারে। তাদের যেন ফিরে আসতে না হয় সেই সুযোগটা তারা করে দেবেন।’