প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালাচ্ছেন সেনা সদস্যরাএকাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টহল ও যানবাহনে তল্লাশি করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) ছুটির দিনে ফাঁকা সড়কে যানবাহনের সংখ্যা যদিও কম, তবু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল, তল্লাশি ও চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।
শুক্রবার প্রথমবারের মতো রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় সেনা সদস্যদের তল্লাশি করতে দেখা গেছে। এ সময় রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহনে তারা তল্লাশিও চালায়। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এই কয়েক দিন তারা শুধু টহল পরিচালনা করছেন।
বাংলামোটর এলাকায় সেনা তল্লাশিসরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেনা সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। ভোটের একদিন আগে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, গুলশান বনানী, মহাখালীসহ বাড্ডা, রামপুরা এলাকায় পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।
বিজিবি সদস্যদের টহল ও নজরদারিরাজধানীর উত্তরা র্যাব-১ কার্যালয় থেকে র্যাবের টহল শুরু হয়েছে। গুলশান, আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাদের চেকপোস্ট তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে মহাখালী, খিলক্ষেত থেকে রামপুরা ও মহাখালী থেকে সাত রাস্তা হয়ে বিজয় সরণির প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে দেখা গেছে।
সেনা তল্লাশির্যাব-১ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্রিক যেকোনও সহিংসতা ঠেকাতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আমাদের টহল ও গোয়ন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র্যাবের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি গাড়ি তল্লাশির আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য এলাকায়ও চেকপোস্ট তল্লাশির পাশাপাশি ফুট পেট্রোল, ভেহিকেল পেট্রোল ও মোবাইল পেট্রোল বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে সেজন্য সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। যেকোনও বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে ।
সেনা সদস্যদের পাশাপাশি ছিল পুলিশের নজরদারি ও তল্লাশিডিএমপির উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করার জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। পুরো ঢাকা শহরে ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৬টি আসন রয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে সকাল আটটায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার ও গণসংযোগ। এখন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিনের বাকি প্রস্তুতি সারছেন প্রার্থীরা।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন