শুক্রবার যে যার এলাকার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিদের সঙ্গে।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস সকাল থেকেই শাজাহানপুরে নিজের বাসায় সময় কাটান। নিজস্ব আঙ্গিকে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়ার কাজও করছেন। বাসায় আসা কর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়েও বাসা থেকে তিনি খুব একটা বের হতে পারেননি। প্রতিদিনই তার বাসার সামনে থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান মেননও দিনভর ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, আজ (শুক্রবার) নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজে ব্যস্ত আছেন। সকাল থেকে কেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্ট সেট করা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ কেন্দ্রভিত্তিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বাসায় এলে তাদের সঙ্গে ভোট নিয়ে পরামর্শ করেন।
রাশেদ খান মেনন আশঙ্কা প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘মির্জা আব্বাস মনে করেছেন নির্বাচনে সেনাবাহিনী তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে প্রশ্রয় দেবে। সেজন্য তিনি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছেন। এতে আমার আশঙ্কা বাড়ছে।’
অন্যদিকে ঢাকা-৯ আসনে মোহাজোট প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী সময় কাটিয়েছেন শহীদভাগের নির্বাচনি কার্যালয়ে। তিনি সকালের দিকে বাসায় ছিলেন। তার বাসায় নেতাকর্মীদের এখনও ভিড় রয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ দলের ওয়ার্ড কমিটির সঙ্গে সময় কাটান।
তার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। এরপরেও যেসব নেতাকর্মী সাবের হোসেনের বাসায় এসেছেন তাদের তিনি নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
আব্দুল মান্নান বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচন একটি কৌশল। সে কারণে তিনি সবাইকে নানা কৌশলসহ দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।’
ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সময় কাটিয়েছেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তিনি দুপুরে ঝিগাতলা ট্যানারি মোড়ে একটি জানাজায় অংশ নেন। এরপর তিনি নিজ কার্যালয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কাজগুলো শেষ করতে নেতাকর্মীদের তদারকি করেন।
এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিএনপি নেতা আবদুল মান্নানের বিষয়ে কোনও খবর পাওয়া না গেলেও তিনি মোবাইল ফোনে এসএমএস’র মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পর সব প্রার্থীই ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগসহ অন্যান্য কাজগুলোতে মনোনিবেশ করেন। এদিন শুক্রবার হওয়ায় সব প্রার্থীই তাদের নিকটস্থ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। এ সময় তারা ভোটারদের সঙ্গে মোলাকাতের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করেন।