প্রকাশ্যে বক্তব্য বা বিবৃতি দিলে জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয় এবং অনেকের কাছে বিদেশিরা আমাদের দিকনির্দেশনা ঠিক করে দিচ্ছে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন ওই কূটনীতিক। মুনশি ফায়েজ বিদেশি কূটনীতিকদের এই ব্যবহারের জন্য অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাকে দায়ী করে বলেন, ‘আমরা কেন তাদের সুযোগ দেই। এজন্য আংশিকভাবে আমরাও দায়ী। কারণ তাদের আমরা সেই সুযোগ করে দেই।’
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের দুর্বল ব্যবস্থার জন্য তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে পারে।’ ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তারা তো সে দেশের নির্বাচন নিয়ে কোনও কথা বলে না কিন্তু এখানে তারা অবলীলায় আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে।’
তিনি বলেন, ‘এমনকি তারা যদি তাদের ইচ্ছার কথাও বলেন, অনেক সময় এটি সমালোচনার মতো শোনায়। আমাদের রাজনৈতিক পরিপক্কতা অর্জন করতে হবে এবং অন্তত বিদেশিরা নির্বাচন নিয়ে কোনও কথা বলবে না এ ধরনের ঐক্যমত্যে সব রাজনৈতিক দলকে পৌঁছাতে হবে।’
সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিব বলেন. ‘এটি আমাদের দেশ এবং আমরাই এর শাসন করবো। এখানে যদি সুশাসন থাকে তবে দেশের মানুষ উপকৃত হবে, না হলে সমস্যায় থাকবে।’
প্রসঙ্গত, প্রচারণা শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, কানাডাসহ আরও কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যে নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে দেখা করার পরে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আল রবার্ট মিলার সহিংসতা নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কানাডার রাষ্ট্রদূত বোনায়া প্রিফোনটেইন গত ২৩ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রত্যেকের উচিৎ প্রাক-নির্বাচনি প্রচারণা শান্তিপূর্ণ এবং দায়িত্বপূর্ণভাবে চালানো। এর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু ও অন্যান্য ভঙ্গুর সম্প্রদায়ের রাজনেতিক ও নির্বাচনি অধিকার রক্ষা করা এবং সুশীল সমাজের জন্য স্বাধীন একটি ভূমি নিশ্চিত করা।’
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ১ হাজার ৮৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১২৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ৩৯টি নিবন্ধিত দলের নেতারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া শুধুমাত্র ইসলামি আন্দোলন ২৯২ আসনে তাদের প্রার্থী দিয়েছে।