ভাগ্য বিড়ম্বিত ১১ জেলা

মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। সোমবার (৭ জানুয়ারি) নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। শেখ হাসিনাসহ এই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ৪৭ জন। এদের মধ্যে ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিন জন উপমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের পূর্ববর্তী দুই মেয়াদে আরও  শতাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন।

সোমবার শুরু হওয়া নতুন মেয়াদসহ বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদের মন্ত্রিসভা ও একাধিক দফায় নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তিতে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে মন্ত্রীত্ব বঞ্চিত হয়েছে ১১টি জেলা। তিন মেয়াদের প্রতিবারই কোনও কোনও জেলা থেকে একাধিক সদস্য স্থান পেলেও এই ১১ জেলার কোনও প্রতিনিধিত্ব কোনও মেয়াদেই মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তিনটি করে, রাজশাহী বিভাগের দুটি এবং রংপুর, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের একটি করে জেলা।

বর্তমান সরকারের তিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্থায়ী ঠিকানা ও নির্বাচনি এলাকা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে। দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটে আবারও বিজয়ী হয়ে ওই বছরের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে সোমবার টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।

সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় ২৩ জন মন্ত্রীসহ ৩১ জন সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পান। পরে একাধিক দফায় সম্প্রসারণ ও রদবদলে মন্ত্রিসভার সদস্য অর্ধ শতকের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ায়। ২০১৪ সালের সরকার গঠনের সময় ৪৪ জন সদস্য নিয়ে মন্ত্রিসভা শুরু হলেও কয়েক দফায় সম্প্রসারণ ও রদবদল মিলিয়ে ৫৭ জন দায়িত্ব পালন করেছেন। আর এবার ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিন জন উপমন্ত্রীসহ ৪৭ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।

মন্ত্রিসভায় দেশের জেলারগুলোর প্রতিনিধিত্ব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে— এতে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট ও বগুড়া, খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও নড়াইল, বরিশাল বিভাগের বরগুনা, ঢাকা বিভাগের মুন্সীগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলার কোনও প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় নেই। তিনটি মন্তিসভাতেই সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধি রয়েছেন।
পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, যে ৫৩ জেলার প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন তার মধ্যে ১৭টি জেলার প্রতিনিধি তিন সরকারেরই মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। এই জেলা গুলো হলো— সিলেট, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ঢাকা, জামালপুর, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাট, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, গাজীপুর, নাটোর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ ও যশোর। এদের মধ্যে একক জেলার বিবেচনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলা এগিয়ে রয়েছে। তিনটি মন্ত্রিসভায় এই জেলাগুলোর একাধিক ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় দেখা গেছে।

এদিকে, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, লক্ষ্মীপুর, রাঙ্গামাটি, মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ, পঞ্চগড়, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার প্রতিনিধিরা তিনটি সরকারের মধ্যে একটিকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে নির্বাচিত শাজাহান কামাল গত বছরের ২ জানুয়ারি শপথ নেন। ফলে তিনি এক বছরের মত মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এদিকে গত দুই টার্ম বঞ্চিত থাকলেও এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছে বাগেরহাট ও শরীয়তপুর জেলা।  এই দুই জেলার প্রতিনিধিরা পেয়েছেন উপমন্ত্রীর দায়িত্ব।

অবশ্য ভোলা ও ঝালকাঠীর প্রতিনিধিত্বও মন্ত্রিসভায় ছিলো বলা যেতে পারে একটি মেয়াদেই। এই দুই জেলার দুই সিনিয়র নেতা প্রথম মেয়াদে মন্ত্রিসভা গঠনের সময় স্থান না পেলেও সরকারের মেয়াদ শেষে যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হয়, সেখানে তাদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ হয়েছিল।

একমাত্র ভাগ্যবান কাদের

বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদের মন্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র ওবায়দুল কাদেরেরই সুযোগ হলো তিন মেয়াদেই মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে থাকার। ২০০৯ সালের সরকার গঠনের সময় ওবায়দুল কাদের মন্ত্রীন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও সরকারের মেয়াদের দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি মন্ত্রী হন। দায়িত্ব পালন যোগাযোগমন্ত্রীর। এরপর ২০১৪ ও ২০১৯ সালের মন্ত্রিসভায়ও আছেন কাদের।