বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে নিজ দফতরে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) প্রথমদিনে অফিসে এসে নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যেসব কাজ অসমাপ্ত রেখে গেছেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাপ্ত করা হবে।’
এসময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সদ্য বিদায়ী মন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, সচিব মো. মিজানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়াধীন দফতর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘সুশাসন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। সঠিকভাবে ওই সব কাজের বাস্তবায়ন ও জনগণের দৌরগোড়ায় এর সুফল পৌঁছে দিতে হলে দরকার সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশের বেকার সমস্যা দূর হবে। তবেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। সমৃদ্ধি ও শান্তি বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশের মানুষ ভাবতে পারেনি, এতো উন্নয়ন হবে। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নে পাকিস্তানসহ অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। পাট ও বস্ত্র বাংলাদেশের বড় শিল্প খাত। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রফতানি বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে কাজে লাগাতে হবে।’
দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি আরও বেগবান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফলতার সঙ্গে দ্রুতগতিতে রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ অর্জনে কাজ করে যাবো। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পাট শিল্পের প্রতি খুবই আন্তরিক। বিজেএমসির মৃতপ্রায় পাটকল পুনরুজ্জীবিত করার জন্য পুরাতন মেশিনের পরিবর্তে আধুনিক মেশিন সংযুক্তকরণে কাজ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার বস্ত্র খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করে যাবে, যেখানে বস্ত্রখাতে কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নতি দুটোই সমানভাবে জড়িয়ে আছে। দেশের উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। আর এটাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাট শিল্পকে এগিয়ে নিতে আরও অনেক পাটপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে বাজারজাতকরণের জন্য নতুন নীতি ও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’