জাতীয় কৃষি মেলারাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে জমে উঠেছে জাতীয় সবজি মেলা। মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সবজিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে অনেকে সবজি কিনছেন। আবার কেউ চাষের বিভিন্ন কলাকৌশল শেখার চেষ্টা করছেন। একই মেলায় দুটো বিষয় পেয়ে বেশ খুশি আগত দর্শনার্থীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, মেলার বিভিন্ন স্টলে সবজি চাষের বিভিন্ন প্রদর্শনী চলছে। পাশাপাশি চলছে হরেক রকমের সবজি বিক্রিও। আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশি আগ্রহ বাসাবাড়ির বারান্দা ও ছাদে সবজি চাষ। এজন্য তারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে এসব জানার চেষ্টা করছেন।
জাতীয় কৃষি মেলাধানমন্ডি থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ মেলায় এসেছেন একটি আবাসন কোম্পানির মালিক ইকবাল হোসেন ইমতু। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে আমরা ঢাকাবাসী যদি একটু চেষ্টা করি তাহলে আমাদের বাসায় শাকসবজির চাষ করতে পারি। আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি একটু কৌশলী হলেই এটা সম্ভব। আমার বাড়িতেও আমি চেষ্টা করছি। এতে পুষ্টি ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি সবুজ নগরী গড়ে তোলা যাবে।’
জাতীয় কৃষি মেলামেলায় প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত সবজি কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়েও প্রদর্শনী হচ্ছে। এমন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে সোলারগাঁও নামে একটি কোম্পানি। তাদের স্টলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে হিমায়িত করে দেখানো হচ্ছে। কোম্পানির পরিচালক শরীফ মুজিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে একান্ত আগ্রহ থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি। আমি যখন দেখেছি একজন কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, ঠিক তখনই সৌর প্যানেল ব্যবহার করে কীভাবে শাকসবজি সংরক্ষণ করা যায় সেই প্রশিক্ষণ নিই। এখন আমার কাছ থেকে দেখে তার উৎপাদিত পণ্য কয়েকদিন হিমায়িত করে রাখতে পারে এবং ভালো দামে বিক্রি করতে পারছে। পাশাপাশি কৃষক সোলার পদ্ধতির মাধ্যমে পাতাল থেকে পানি তুলে চাষাবাদও করতে পারছেন। মেলায় আমরা এই প্রযুক্তিগুলো দেখাচ্ছি।’
জাতীয় কৃষি মেলা
বৃহস্পতিবার কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক তিন দিনব্যাপী এই মেলা উদ্বোধন করেন। এবারের মেলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৭১টি স্টল ও পাঁচটি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকছে। মেলা চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। ‘নিরাপদ সবজি করব চাষ, পুষ্টি মিলবে বার মাস’ প্রতিপাদ্যে চতুর্থবারের মতো এ মেলার আয়োজন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।