শনিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে মানবপাচার দমনে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনের ভূমিকা নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের এক সভায় তিনি এ কথা জানান।
সলিডারিটি সেন্টার এবং সার্ক’ল যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
সরকার কোনও অবস্থাতেই চায় না যে একটি মানুষও পাচারের শিকার হোক। এটা নিয়ে তারা ‘জিরো টলারেন্সে’ কাজ করতে চান বলেও জানান বিএমইটি মহাপরিচালক।
সেলিম রেজা বলেন, “সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে: ‘প্রতি উপজেলা থেকে বছরে ১ হাজার লোক বিদেশে পাঠাতে হবে।’ সেজন্য যারা বিদেশ যেতে চান প্রত্যেক উপজেলা থেকে প্রতিবছর এমন ১ হাজার লোকের নাম অন্তর্ভুক্ত করবো। দালালদের বাদ দিয়েই রিক্রুটিং এজেন্সির চাহিদাপত্র অনুযায়ী ওই ডাটাবেজ থেকেই আমরা কর্মী বিদেশে পাঠাবো। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও কাজ করছে।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ‘দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ হচ্ছে জানিয়ে বিএমইটি মহাপরিচালক বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়নে আমাদের কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত, তারা যাতে সবাই ইফেক্টিভ পন্থায় কাজ করতে পারে, সেজন্য জাতীয় একটি সংস্থা করতে যাচ্ছে সরকার।’
সেলিম রেজা আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম কথা হলো দক্ষতা উন্নয়ন। আমরা যদি আমাদের কর্মীদের ভালো করতে পারি, তাদের যদি দক্ষ করতে পারি, তাদের কাঙ্ক্ষিত দেশের ভাষা শেখাতে পারি, তাহলে কিন্তু এই সেক্টরের শোষণের মাত্রা অনেক কমে যাবে।’
দেশে কেউ ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং’ নিতে চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের মধ্যে একটা ধারণা আছে যে বিএ, এমএ পাস করতে হবে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে আমাদের এই ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ। সরকার এর ওপর জোর দেওয়ায় তা বেড়ে ১৪ শতাংশ হয়েছে। এটাকে ২০ শতাংশে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি) আমরা শুধু প্রশিক্ষণই ফ্রি দিচ্ছি না, যে ট্রেনিং নিতে যাচ্ছে তাকে ১ হাজার টাকা করে বৃত্তিও দিচ্ছি, যাতে তারা আগ্রহী হয়।’
এসময় তিনি এনজিওগুলোর গ্রামপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার জন্য মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
সভার শুরুতেই বক্তব্য রাখেন সলিডারিটি সেন্টার বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার কে জনসন। সভা সঞ্চালনা করেন সার্ক ’ল-এর সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ মহসিন রশিদ। মানবাপাচার প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন দিক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লুতফুন কাদির।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল নাজমা আখতার, বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বোমসা) পরিচালক অ্যাডভোকেট সুমাইয়া ইসলাম, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষে ফরহাদ আল করিম, ওয়ারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক জেসিয়া খাতুন, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনিসুর রহমান খান প্রমুখ।