বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ হবে ২ লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর। নতুন এ টার্মিনাল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করা হবে। স্থানান্তর ও সম্প্রসারণ করা হবে কার্গো ভিলেজ, ভিভিআইপি কমপ্লেক্স, হ্যাঙ্গার ও পদ্মা ওয়েল ডেপো।
এ নির্মাণ কাজের জন্য গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বেবিচক। তবে দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ১ মাস বাড়ানো হয়। আগের দরপত্র সংগ্রহের সময়সীমা ছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যা বাড়ানো হয়েছে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। একই সঙ্গে দরপত্র খোলার তারিখ এক মাস পিছিয়ে ১৯ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দরপত্রের সময়সীমা বাড়ানোর প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, তৃতীয় টার্মিনাল নিমার্ণ প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম বলেন, এটি বৃহৎ একটি প্রকল্প। দরপত্রের সঙ্গে অনেক ধরনের বিষয় সম্পৃক্ত। অনেক তথ্য-উপাত্ত ও জামানত জমা দিতে হবে আবেদনকারীদের। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনালের নকশায় রয়েছে ২৪টি বোর্ডিং ব্রিজ, যদিও প্রথম ধাপে নির্মাণ করা হবে ১২টি। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাকি ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ ধাপে-ধাপে নির্মাণ করা হবে। যাত্রীদের তৃতীয় টার্মিনালে চেক ইন বেল্ট থাকবে ১৩টি। আগত যাত্রীদের চাপ সামলাতে ও যানজট এড়াতে বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়কেও আসবে পরিবর্তন।
তৃতীয় টার্মিনাল নিমার্ণ প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম বলেন, বড় প্রকল্প হওয়ায় টেন্ডার ঘোষণা, টেন্ডার আবেদন সংগ্রহ, দরপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজে সময় বেশি লাগছে। তবে এ বছর সেপ্টেম্বরে নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। এর আগে ২০১৫ সালে বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টার প্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
২০১৭ সালের ১১ জুন এ প্রকল্পের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে পরামর্শক নিয়োগ দেয় বেবিচক। সে সময় তৎকালীন বেবিচক চেয়ারম্যান এহসানুল গণি চৌধুরী জানিয়েছিলেন, প্রকল্পের কাজ শুরু হবে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে, শেষ হবে ২০২১ সালের এপ্রিলে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সফট লঞ্চিং করা সম্ভব হবে। তবে এ প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পের সঙ্গে জাপানের জাইকার সম্পৃক্ততা রয়েছে। দুই পক্ষের তদারকিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।