মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শিশুশ্রম নিরসনে গঠিত ‘জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ’-এর ৭ম সভায় এসব কথা বলেছেন তিনি।
এ সময় শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্পের ৪র্থ পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে আনা হবে। বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োজিত শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’ এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষে ওই শিশুদের আত্মকর্মসংস্থানে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম নিরসনে শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং শ্রম অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কাজে কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় এবং শক্তিশালী করা হবে।’
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর অর্ধশিক্ষিত থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
সভায় শিশুশ্রম নিরসনে কোন কোন খাতে কত শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে তার সঠিক সংখ্যা নির্ণয়ে দেশব্যাপী জরিপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর শিশুশ্রম সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিং করছে এবং কোনও কারখানা মালিক শ্রমে শিশুদের নিয়োগ দিয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে ১৮৬টি মামলা করা হয়েছে, এরমধ্যে ৫১টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ১৩৫টি মামলা চলমান রয়েছে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ আহম্মদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কর মাহমুদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভূঁইয়া, শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক শিবনাথ রায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইএলও প্রতিনিধিসহ এই কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।