মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে সময় দেখা যায়, এফআইআর করে ফেলে রাখা হয়েছে। সেগুলোকে চার্জশিট দেওয়া, অভিযোগ করা, সাক্ষী নিয়ে আসার কাজগুলো অনেক সময় ঠিকমতো করা হয় না। আর কোর্টে গেলেও সেটা বছরের পর বছর আটকে থাকে। সেখানে আবার আইনজীবী লাগে, অথবা সরকার পক্ষ থেকেও লোক লাগে। এই বিষয়গুলোর জন্য আমার মনে হয় একটা আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কীভাবে মামলাগুলো যথাযথভাবে চলবে এবং সময়মতো মামলাগুলো সম্পন্ন হবে, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।’
জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস বাংলাদেশের একার সমস্যা না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের একটা স্ট্রাটেজি থাকতে হবে। কীভাবে কোথায় কখন কোন জায়গা থেকে আমাদের ওপরে হামলা করতে পারে, এরকম সম্ভাবনা আছে কিনা? গোয়েন্দা নজরদারিও যেমন বাড়াতে হবে, পাশাপাশি এ ধরনের একটা স্ট্রাটেজি নিয়েই সবসময় আমাদের আরও ট্রেনিং এবং প্রস্তুত থাকা দরকার।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘এরইমধ্যে সাইবার নিয়ন্ত্রণ ক্রাইমের আইনও করে দিয়েছি। যেটা নিয়ে বেশ হইচই, অনেকে সেটার বিরুদ্ধে কথা বলে, কিন্তু বাস্তবতা হলো যে, এই আইনটা একান্তভাবে করা হয়েছে মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। যারা নিরীহ সাধারণ জনগোষ্ঠীর, তাদের যে মানবাধিকার রয়েছে, সেটা সংরক্ষিত করবার জন্যই এই আইনটা আমরা করেছি। এটা মানুষের অধিকার রক্ষা, মানুষের জীবনমান বাঁচানোর জন্যই করা।’ তাই পুলিশ বাহিনীকে এসব তদন্ত করে সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া, সারাদেশে বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রত্যেকটি এলাকায় বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক দ্রুত অ্যাকশনে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জনসহ এর ওপর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বেশি প্রয়োজন বলেও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘এরইমধ্যে বাজেটও আমরা বৃদ্ধি করেছি। সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বাজেট যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর বাজেটও আমরা বৃদ্ধি করে দিয়েছি, যাতে কাজগুলো হয়।’
২০০৮ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন থেকে সরকারের ধারাবাহিকতার দিকটি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার গঠন করা মানে হলো আমার কাছে দেশের সেবা করার একটা সুযোগ পাওয়া। সরকারে এসে নিজের ভাগ্য গড়া নয়। দেশের মানুষের ভাগ্য কীভাবে গড়বো, তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি এবং সেভাবেই কাজ করে গেছি। যার ফলাফল দেশের মানুষে পেয়েছে। আজকে তৃণমূল পর্যায়ে যাতে মানুষের ভাগ্য উন্নত হয়, সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এর মাঝে অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে। বারবার অনেক বাধা এসেছে। অনেক সমস্যা এসেছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরেকদিকে কিছু গোষ্ঠী বা দলসৃষ্ট দুর্যোগ, সেগুলো আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে নানা ধরনের আঘাত এসেছে সেই সময়। আমি এইটুকু বলবো, আমাদের পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সব অবস্থা মোকাবিলা করেছে। জঙ্গিবাদ দমন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, সেজন্য আমি আপনাদের সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব হারাবার বেদনা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম শুধু একটা চিন্তা থেকে, যে আদর্শ নিয়ে যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের দুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। বাংলাদেশকে একটা মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করার পর আমরা বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে যে সম্মান পেয়েছিলাম, সেই সস্মান নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর। কাজেই আমার চেষ্টাই ছিল দুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য কাজ করার। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি, এ যুদ্ধে পুলিশ বাহিনীকে পাশে চাই।’