অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে সহায়তা বাবদ পাওয়া প্রতিশ্রুতির অর্থ ছাড়ের এ পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়ানো যেতো।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তা বাবদ পাওয়া মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৭৯ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরমধ্যে অনুদানের পরিমাণ ৮ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা শতকরা হিসাবে ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ঋণের পরিমাণ ৭১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা শতকরা হিসাবে ৮৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আলোচ্য ১২ বছরে সহায়তা বাবদ দাতা দেশগুলো ছাড় করেছে মাত্র ৩৫ দশমিক ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরমধ্যে অনুদান ৭ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শতকরা হিসাবে এ হার ২১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঋণের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, শতকরা হিসাবে এ হার ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। যার পরিমাণ ২ হাজার ৯৩৫ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে জাপান। এই সময়ে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে জাপান থেকে বছরে বৈদেশিক সহায়তা প্রতিশ্রুতির গড় পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ৮১৩ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ১০ বছরে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির গড় পরিমাণ ছিলো ৭ হাজার ২৭৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের স্বাধীনতা উত্তরকালে সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ২০১৬-১৭ অর্থবছর। যার পরিমাণ ছিলো ১৭ হাজার ৯৬১ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইআরডি জানিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে মোট ৯৮টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে অনুদান চুক্তি ৫০টি এবং ঋণ চুক্তি ৪৮টি এবং মোট ১৪ হাজার ৬১২ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরমধ্যে অনুদান ৭ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শতকরা হিসাবে যা ২১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঋণের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা শতকরা হিসাবে ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ। গত ১০ বছরে বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ের গড় পরিমাণ ছিলো ৩,০৪৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরেই মোট ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ছাড় করা সম্ভব হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং ওই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নির্ভর করে সহায়তাকারী দেশ বা সংস্থার মর্জির ওপর। তারা টাকা ছাড়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত দেয়। ওই শর্ত পূরণ করা না করার ওপরই নির্ভর করে সহায়তার অর্থ ছাড় কী পরিমাণ হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি। এ তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে অর্থ ছাড় ত্বরান্বিত হয় বলে আমি মনে করি।’
এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘গত ১০ বছরে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের পরিমাণ খুবই সন্তোষজনক ছিলো। আমার সময়কালের শেষ দু’বছর সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ছাড়ের পরিমাণও সন্তোষজনক ছিলো।’