বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী জার্মানির উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে তিনি মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।’
এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিমেন্স কোম্পানির গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মান রিক্রুট কোম্পানি ভেরিডোস-এর সিইও’র পৃথকভাবে সাক্ষাৎ হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সিমেন্স বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হতে পারে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে সেখানকার ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখদুমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার এবং প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ওই দেশে বাংলাদেশিদের আরও বেশি কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে অবদান রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’ সফরকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাখাইনে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সদস্য দেশ ১৯৩টি, এরমধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ। এখন অন্যান্য দেশ তাদের (রোহিঙ্গাদের) আশ্রয় দিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদেশিদের সঙ্গে যেকোনও আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলে ধরি। এর সমাধান সহজ নয়, তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী ছয়দিনের সফর শেষে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ফিরবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।