গাড়ির ছবি এবং মানুষের বিস্ময়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম পোস্ট করেন সাংবাদিক আলী আসিফ শাওন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেলায় বিকেল ৫ টার দিকে মওলা ব্রাদার্সের প্যাভিলিয়নের সামনে একটি গাড়ি দেখে চমকে যাই। জানতে পারি গাড়িটি প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের।’
মেলায় এর আগে গাড়ি দেখিনি বলেই চোখে পড়েছে উল্লেখ করে ক্রেতা রেজওয়ানা হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা গাড়ি টিএসসিতে বা কখনও কখনও আরও দূরে রেখে দীর্ঘপথ হেঁটে মেলায় ঢুকি। মন্ত্রী নিরাপত্তার জন্য সেটি না পারলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢোকার পথে মেলার শেষ যে গেট সেখানে তো গাড়ি ছেড়ে দিতে পারতেন।’
এ বিষয়ে মওলা ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আহমেদ মাহমুদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের প্যাভিলিয়নে এসেছিলেন। তার পরিচিত একজনের বই প্রকাশিত হয়েছে। সেই বই কিনতে এসে কিছু সময় ফটোসেশন করে চলে গেছেন।’ এর আগে কখনও মেলার মাঠে গাড়ি দেখেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি স্টলে ব্যস্ত ছিলাম, গাড়ি দেখিনি।’
বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ফোন চালু থাকলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে পরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রেজোয়ান শ্রাবণ বাংলা ট্রিবিউনকে ফোন করে জানান, ‘‘লেখক মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের ‘এখনই সময় বাংলাদেশ’ বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বইমেলায় এসেছিলেন। তিনি বইমেলার গেটের কাছে নেমে হেঁটেই মেলায় প্রবেশ করেন এবং ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু, তার চালক কিছুক্ষণ পর গাড়িটি নিয়ে মেলার ভেতরে প্রবেশ করে যা তিনিসহ কেউ অবহিত ছিলেন না। সরকারি গাড়ি হওয়ায় মেলায় প্রবেশে গাড়িটিকে কেউ বাধাও দেয়নি। এটি প্রতিমন্ত্রীর অজ্ঞাতসারেই ঘটেছে। এরপরেও এই ঘটনার জন্য তিনি তার চালককে সতর্ক করেছেন এবং সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’