দুই শিশু জানে না তাদের বাবা ফিরবেন কিনা

ইসহাক বেপারীর মরদেহের অপেক্ষায় ঢামেকের মর্গের সামনে তার বোন ও স্ত্রী

কাজের শেষে প্রতিদিনই রাত ১১টার দিকে বাসায় ফিরতেন মো. ইসহাক বেপারী। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাবাকে দেখতে না পেয়ে তার ছোট দুই ছেলে জানতে চায়— ‘বাবা কোথায়?’ 

মা চম্পা বেগম তাদের জানিয়েছেন—  ‘তোমাদের বাবা আসবে।’ কিন্তু এই অবুঝ শিশু দুটি এখনও জানে না, তাদের বাবা আর কোনও দিন জীবিত ফিরে আসবেন না।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারে চুড়িহাট্টার ওয়াহিদ চেয়ারম্যানের চার তলা ভবনটিতে প্রথমে আগুন লাগে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে ওই ভবনের পাশের ও পেছনের দুটি ভবনে। এছাড়া, সরু গলির বিপরীত পাশের আরও  দুটি ভবনে আগুন লাগে।

সেখানেই একটি ভবন থেকে মালামাল ওঠানোর জন্য ভ্যান নিয়ে গিয়েছিলেন ইসহাক বেপারী। হঠাৎ লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা যান তিনি। তার মরদেহ শনাক্ত  ও সংগ্রহ করতে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছিলেন স্ত্রী চম্পা বেগম ও বোন হাসিনা।

ইসহাক ছিলেন পেশায় ভ্যানচালক। পাঁচ বছর বয়সী বড় ছেলেকে কিছু দিন আগে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। ছেলেকে পড়ানো নিয়ে খুব আগ্রহ ছিল ইসহাকের।

তার স্ত্রী চম্পা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাত নয়টার দিকে ফোন করেছিল। ছেলেকে পড়ানো হচ্ছে কিনা, খোঁজ নিয়েছে। এটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা।’

চম্পা বলেন, ‘ প্রতিদিন রাত ১১টার দিকে বাসায় ফেরে সে (ইসহাক)। যখন (বুধবার রাতে) বাসায় ফিরছিল না, তখন বারবার ফোন দিতে থাকি, কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাই। এরপর রাতেই ননদের সঙ্গে কথা বলি। সকালে আমার ননদ হাসপাতালে আসেন  এবং তার মরদেহ  শনাক্ত করেন। সকালে বাচ্চা দুটোকে বোনের বাসায় রেখে  হাসপাতালে এসেছি।’

ইসহাক বেপারী ও চম্পা বেগমের বিয়ে হয়েছে প্রায় আট বছর আগে। বাসা কামরাঙ্গীচরে। তাদের বড় ছেলে আলিফের পাঁচ বছর, আর  ছোট ছেলে মো. আরাফাতের বয়স তিন বছর।

নিহত ইসহাক বেপারীর গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুরের লৌহজংয়ে। তার বোন হাসিনা বেগম বলেন, ‘রাতেই আমরা হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কিন্তু কোথাও আমার ভাইকে পাইনি। ভোরে ঢামেকের মর্গে আসি। পোড়া লাশগুলোর মধ্যে ভাইকে খুঁজতে থাকি। পরে ভাইয়ের গামছা দেখে চিনতে পারি।’