এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সংসদে বিমান ছিনতাইচেষ্টার ঘটনা ৩০০ বিধিতে সংসদে অবহিত করেন।
পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘বিমান নিয়ে প্রায়ই এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। কখনও দেখি বিমানের ভেতরে পাখি ঢুকে যাচ্ছে, কখনও দেখি চাকা বন্ধ হয়ে গেছে। কখনও দেখি বিভিন্নভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রধানমন্ত্রীও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। চার ধাপে তল্লাশি করে বিমানের ভেতরে ঢুকতে হয়। তারপরও একটি লোক অস্ত্র নিয়ে কী করে গেলো?’
তদন্ত কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি একটা ফরমাল প্রসেস। এটা গঠন করা হয়। কখনও রিপোর্ট বের হয়, কখনও বের হয় না। এটা নিয়ে আসল তথ্য বের হবে না। কেন ঘটছে? মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন তাদের দায়িত্বটা কি পালন করেছে? কেমন করে অস্ত্র নিয়ে ঢুকলো? প্রধানমন্ত্রী বিমান থেকে নামলেন তারপরেই এই ঘটনা। এটাকে সহজভাবে নিতে পারি না। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া দরকার।’
তিনি বলেন, ‘এটা ন্যাশনাল এয়ারলাইন্স। জাতির সম্মান, অর্থনীতির বিষয়। সর্বদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে কমিটি করে তদন্ত করা উচিত। তদন্ত করে সংসদকে জানাতে হবে। আর মন্ত্রীকে বলতে হবে, প্রতিশ্রুতি দিতে হবে আর কখনও এমন ঘটনা ঘটবে না। না হলে বিমানে মানুষ উঠবে না, লোকসান হবে।’
পাইলট ও ক্রুদের পুরস্কৃত করার দাবি
পয়েন্ট অব অর্ডার ফ্লোর নিয়ে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় আর টেলিভিশনে এসেছে, আমি ওই বিমানে ছিলাম। আমি ছিলাম না। প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুষ্ঠানে ছিল। তারপর আমি ওখানে ছিলাম ঢাকায় আসার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্টে যাওয়ার সাথে সাথে দেখলাম লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছে। বললো, একটা প্লেন হাইজ্যাক হয়েছে। বলতে বলতে প্লেনটি ল্যান্ড করলো। এই প্লেনটাতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং ছিলেন। আমি তাকে বললাম, সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এখানে থাকা। আমি টারমার্কে চলে গেলাম। টারমার্কে আমাকে দেখে অনেকে মনে করেছে, আমিও প্যাসেঞ্জার ছিলাম।’
বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি বাদল বলেন, “আমি শেষ পর্যন্ত ওখানে উপস্থিত ছিলাম। নানা কাহিনি বিস্তার লাভ করেছে। মোদ্দা কথা হলো, একজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি পেছন থেকে দৌড়ে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করছিল। পাইলটকে দরজা খোলার জন্য বলছিল। পাইলট দরজা খোলেনি। কতগুলো পত্রিকায় দেখলাম, পাইলটের সাথে তার মল্লযুদ্ধ হয়েছে। এসব কিচ্ছু হয়নি।’
বাদল বলেন, “কেউ কেউ বলছে, তখন সে একটা গুলি করেছে। ভেতরে যাত্রী ছিল। পাইলট কখনও দরজা খোলেনি। পাইলট তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছে। তখন সে বলেছে ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চাই।’ পাইলট তাকে এনগেজ করে বলেছে, ‘নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন, একটু সময় লাগবে।’ পাইলট তাকে এনগেজ রেখেছিল। পাইলট চট্টগ্রামের বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করেছে। পাইলট অত্যন্ত দূরদর্শীতার সঙ্গে, ঠান্ডা মাথায়, সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে প্লেনটি ল্যান্ড করে। আমাদের বিমানের যে ক্রু, তিনটা মেয়ে, দুইটা ছেলে— ওদের নাম নিম্মি, হোসেনে আরা, রুমা, সাগর ও সাকুর। তারাও যাত্রীদের আশ্বস্ত করার জন্য ভূমিকা রেখেছে। তারা বিজনেস ও ইকোনমি ক্লাসের পর্দা টেনে দিয়ে দরজা খুলে দেয়। যাতে যাত্রীরা নেমে আসতে পারে।”
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে রিয়েল হিরোরা স্বীকৃতি পায় না। আমি উপস্থিত থেকে দেখেছি ক্যাপ্টেন গোলাম শফি, ফার্স্ট অফিসার মুনতাসীর মাহবুব ও পাঁচজন ক্রু; এই বাঙালি ছেলে-মেয়েরা অসম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো, এদের যথাযথভাবে পুরস্কৃত করা উচিত। দুই ঘণ্টা ৩২ মিনিটের মাথায় বিমানবন্দর খুলে দেওয়া হয়। দুনিয়ার বহু জায়গায় সারাদিন বিমানবন্দর বন্ধ থাকে।’