নানা প্রতিশ্রুতি মেয়র প্রার্থীদের, বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ে ভোটাররা

শেষ দিনের প্রচারে আতিকুল ইসলামরাত পোহালেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন। এরই মধ্যে প্রচার শেষ হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ প্রার্থী। তাদের মধ্যে কার্যত মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাফিন আহমেদ। নগর গড়ার নানা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা। ঘুরে ফিরে সব প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি প্রায় একই ছিল। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে সংশয় রয়েছে।

দুই প্রার্থী ছাড়া প্রচারে অন্যদের খুব একটা দেখা না গেলেও জয়ের ব্যাপারে সবাই আশাবাদী। অন্য প্রার্থীরা হলেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির (পিডিপি) শাহীন খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম।

প্রচারে আতিকুল ইসলামআওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে কাজ বোঝা। এরপর সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো। নগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে উপহার দিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবো। দেয়ালে কোনও ধরনের পোস্টার ফেস্টুন লাগাতে দেবো না। দৃষ্টিকটু সব দেয়াল বিভিন্ন দৃশ্য এঁকে সাজিয়ে তুলবো।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাফিন আহমেদে বলেন, ‘বায়ু দূষণে বিশ্বে ঢাকার অবস্থান প্রথম। এটা রোধ করতে হবে। খাল খনন করে পানি ধরে রাখার চেষ্টা করবো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনও ধরনের পলিব্যাগ সহ্য করা হবে না। এই এলাকায় মাদক ও খাদ্যে ভেজাল নির্মূলে আমার অবস্থান থাকবে জিরো ট্রলারেন্স। পরিবেশের উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ করা হবে। ফুটপাত যাতে পথচারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যায় সেজন্য হকার পুনর্বাসন করে ফুটপাত দখল ‍মুক্ত করবো।’  

শাফিন আহমেদে পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন তার ভাইতিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যাতে সিটি করপোরেশনের সব সেবা পান তা নিশ্চিত করবো। জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষার প্রতি নজর থাকবে। সঠিক সময়ে ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিধন করা হবে। মাদক সেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্ত্রাস ও নানাবিধ অসমাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলবো।’ 

তবে নির্বাচন নিয়ে শাফিন আহমেদ এই প্রার্থীর নানা আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আসলে নির্বাচনে কী হবে সেটা সবাই জানে। মানুষ একই রকমের নির্বাচন দেখে আসছে। আর দেখতে চায় না। সরকার দলের প্রার্থী সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। মানুষ যাতে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

নির্বাচনি প্রচারে শাফিন আহমেদস্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেছেন, ‘আমি আনিস ভাইয়ের টেবিল ঘড়ি মার্কা নিয়েই জনতার কাছে এসেছি। তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চাই। নির্বাচিত হলে বস্তিবাসীর জন্য কাজ করবো। স্থায়ী বহুতল ভবন নির্মাণ করে তাদের পুনর্বাসন করবো। শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ করা, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, কর্মসংস্থান তৈরি করা, ন্যায্য মূল্যে খাদ্য বিতরণ প্রকল্প চালু করা এবং সবার মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকবো।’

DNCC-PIC-(10)

প্রার্থীদের এমন প্রতিশ্রুতির বিষয়ে বাড্ডা এলাকার ভোটার মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের অগে প্রার্থীরা অনেক ধরনের কথা বলেন। বস্তি থেকে শুরু করে সব এলাকার ভোটারদের ঘরে ঘরে যান। নির্বাচিত হলে সবই ভুলে যান। আমরা এমন অনেক প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি দেখেছি। কিন্তু কোনও কিছুরই বাস্তবায়ন দেখিনি। আমার বিশ্বাস, যোগ্য নেতৃত্বে এলে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব।’

মেয়র প্রার্থীদের পোস্টার

মেয়র প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বার হোসেন বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন নয়। নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়রের প্রথম কাজ হবে নাগরিকদের পাশাপাশি যারা নগর নিয়ে জানেন, বোঝেন এবং গবেষণা করেন তাদের সঙ্গে সবে একটা ধারণা নেওয়া। এরপর সবার মতামত ও বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সমাধান করা।’