‘বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন প্রকল্প’ একনেকে অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীতবিদ্যুৎ বিভাগের ‘বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৩২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা সরকার অর্থায়ন করবে, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বিদেশি ঋণ ১ হাজার ৭৪৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘একনেক সভায় উল্লেখিত প্রকল্পটিসহ নতুন ১০টি ও সংশোধিত তিনটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ১৩ প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে দেওয়া হবে ৯ হাজার ৪৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৫৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে দুই হাজার ৮২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
একনেক সভায় অনুমোদর পাওয়া সংশোধিত তিনটি প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘ঢাকা শহরে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩৭৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কে ‘পায়রা সেতু’ দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩৬৮ কোটি ২৯ লাখ সরকারি অর্থায়ন এবং বিদেশি ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৭৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মূল প্রকল্প ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে চলমান আছে। এই প্রকল্প ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিতীয় সংশোধনীতে এর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২২ সালের জুনে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ‘গোপালগঞ্জে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় শাখা কারখানা স্থাপন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় হবে ৭৯৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে ১ কোটি টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন। ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই ধাপে এর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এ ছাড়া বাকি ৯টি নতুন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ‘কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে।
এছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের (এন-১০৪) ২-লেন অংশ (মহিপাল থেকে চৌমুহনী পূর্ব বাজার পর্যন্ত) চারলেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পে খরচ হবে ৭৪৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপদ অধিদফতর।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘মহালছড়ি-সিন্দুকছড়ি-জালিয়াপাড়া সড়কের সিন্দুকছড়ি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে।
এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘মোংলা বন্দরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি/সরঞ্জাম সংগ্রহ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে। এটি বাস্তবায়ন করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘কুড়িগ্রামের চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর ভাঙন রোধ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘সোনাগাজী ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়কে ফেনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬৬২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে এই প্রকল্প।
মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৮৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়/বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন হবে।