‘বিএনপি নেতার বিভ্রান্তিকর তথ্যে কেমিক্যাল গুদাম উচ্ছেদে বাধা আসে’

কথা বলছেন সাঈদ খোকন

একজন বিএনপি নেতার বিভ্রান্তিকর তথ্যে প্রভাবিত হয়ে রাজধানীর বকশি বাজারের কেমিক্যাল গুদামের মালিকেরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) টাস্কফোর্স টিমের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। শনিবার (২ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে বকশি বাজারের জয়নাগ রোডে কেমিক্যাল গুদাম উচ্ছেদ অভিযানে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘আপনারা জানেন, সকালে নানা রকমের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে অবৈধ কারখানা অপসারণে টিম বাধার সম্মুখীন হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এটি মহানগর বিএনপির একজন নেতার কারণে হয়েছিল। তার বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো আমি আসার পর থেমেছে। আমি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বুঝানোর পর তারা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা কথা হয়েছে। তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নগর প্রশাসনের কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছি। তারা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’

খোকন বলেন, ‘তারা (বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা) প্রচার করে, আমাদের টিম জোর-জবরদস্তি করছে, বাসাবাড়ি সিলগালা করছে, মালামাল ফেলে দিচ্ছে; যে কারণে বাধার সৃষ্টি হয়। কিন্তু আমাদের টিম এ ধরনের কোনও কাজ করেনি। শুধু যেসব বাসাবাড়িতে গোডাউন আছে, সেসব বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে; যাতে তারা গোড়াউনের মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।’

এর আগে সকালে সিটি করপোরেশনের একটি দল জয়নাগ রোডের একটি আবাসিক ভবনে কেমিক্যালের গুদাম খুঁজে পায়। এরপর ভবনটির বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় এলাকার ব্যবসায়ীরা স্লোগান দিতে থাকে এবং তাদের তোপের মুখে অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয় টাস্কফোর্স। পরে বেলা আড়াইটার দিকে সাঈদ খোকন নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে অভিযানটি পুনরায় শুরু করেন।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়র সাঈদ খোকন মহানগর বিএনপির যে নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন, তার নাম আবু মোতালেব। তিনি ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সহ-সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্যাকেজিং রোল প্রস্তুতকারক মালিক ও বণিক সমিতির সভাপতি।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আবু মোতালেব বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘আমি সেখানে রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে যাইনি, আমি গিয়েছি এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে। আমি তাদের (টাস্কফোর্স টিম) বলেছি, আপনারা তো বলেছেন, ২৯টি দাহ্য পদার্থ অপসারণ করবেন। কিন্তু এখন তো দেখছি যেগুলোতে দাহ্য পদার্থ নেই, সেগুলোও অপসারণ করছেন। যদি দাহ্য পদার্থ থাকে, তাহলে অপসারণ করেন, সার্ভিস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন, কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সবগুলোর সার্ভিস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন উনি (মেয়র) যদি এটাকে রাজনৈতিকভাবে নিয়ে নেন, তাহলে আর বলার কিছু নেই। আর আমি তো এখন রাজনীতি করি না। অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি।’