সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এই দুই দেশ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ যেমন, কুয়েত, কাতার, ওমান ও বাহরাইনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসরকারি খাতের কাছে এখানে ট্রেনিং স্কুল খোলার জন্য বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছি।’
তিনি বলেন, আমাদের অদক্ষ জনশক্তি বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। কিন্তু এর মধ্যে যদি ১০ শতাংশও দক্ষ জনশক্তি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তৈরি হয়, তবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়বে।
সরকারের এই কর্মকর্তা ফিলিপাইনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ফিলিপাইন বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রোমিট্যান্স আয় করে এবং এর বেশির ভাগ পাঠায় তাদের নাবিকরা, যারা বিভিন্ন দেশের জাহাজে চাকরি করেন।
তিনি বলেন, ‘এই মাসের মধ্যে একটি সৌদি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। ওই দলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও থাকবেন। আমরা তাদের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য স্কুল খোলা নিয়ে আলোচনা করবো।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। তখন এ ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সরকারের আরেকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অদক্ষ জনগোষ্ঠীর চাহিদা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাবে না এবং এটি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষ লোক পাঠানো।’
তিনি জানান, আমাদের সবচেয়ে বেশি জনশক্তির বাজার হচ্ছে সৌদি আরব এবং সেখানে দক্ষ লোকের চাহিদা আছে।
উদাহরণ হিসেবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্প্রতি ওই দেশ কিছু ডাক্তার নিতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদের কর্মস্থল মক্কা, জেদ্দা বা কোনও বড় শহর নয় বরং ওইসব শহর থেকে ২০০ বা ৩০০ কিলোমিটার দূরে ছোট ছোট উপশহর, যেখানে তারা আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘ওইসব জায়গায় বেতন ও সুবিধা ভালো, কিন্তু বাচ্চাদের পড়াশোনার ভালো ব্যবস্থা নেই বলে অনেকে যেতে আগ্রহী হয় না।’