সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীতে রাস্তার পাশে সোনালী রোদ্দুর গায়ে লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আঁটি আঁটি পাটখড়ি। সপ্তাহজুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ও সড়ক বিভাজন পাটের সজ্জায় বর্ণিল। এ আয়োজন জাতীয় পাট দিবসকে ঘিরে। আজ ৬ মার্চ। জনজমাটভাবে দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে জাতীয় পাট দিবস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (৬ মার্চ) জাতীয় পাট দিবসের মূল অনুষ্ঠানে তিন দিনের পাটপণ্যের মেলা উদ্বোধন করেছেন।
সাধারণ খেলনা থেকে অত্যাধুনিক জেট বিমানে পর্যন্ত পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে। অন্তত এক হাজার বহুমুখী পণ্য তৈরি হচ্ছে পাট দিয়ে। বিশ্বব্যাপী বাজার বাড়ছে পাটপণ্যের। ২০১৯ সালের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশ একই পথে যাচ্ছে। এর অর্থ, বিশ্বব্যাপী বাজার বাড়ছে পাটপণ্যের। ইতিমধ্যেই দেশে উদ্ভাবন করা হয়েছে পাট দিয়ে পলিথিন। সেই পলিথিন এখন বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া চলছে।
ইপিবির তথ্যমতে, বর্তমানে ১১৮টি দেশে বহুমুখী পাটপণ্য রফতানি হচ্ছে। হস্তশিল্প হিসেবেও অনেক পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে পাট, যা পাটের রফতানি আয়ের মধ্যে স্বীকৃতি পায় না। দেশেও বাড়ছে পাটপণ্যের চাহিদা। বছরে ৭০০ কোটি টাকার পাটের চট বা জিও টেক্সটাইলের অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি হয়েছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মোট রফতানি আয়ের ৯০ শতাংশই ছিল পাট থেকে। আশির দশকে সিনথেটিক পণ্যের ব্যবহার শুরু হওয়ায় পাট খাতের পতন শুরু হয়। কয়েক বছর ধরে আবারও বিশ্বব্যাপী পাটের ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে বিশ্ববাজারে।
এ প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘বিশ্ব বাজারে পাটের বাজার পড়ে যাওয়ার কারণে পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে পাটের সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ব এখন প্লাষ্টিককে বর্জন করতে শুরু করেছে। আর সেজন্য আমরা পাটের সুদিন নিয়ে আশাবাদী। সরকারি পাটকলের তুলনায় বেসরকারি পাটকল বাজারে পণ্য আগে আনতে পারে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পাটকে রক্ষায় আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি পাটে কোনও দুর্নীতি কিংবা গাফিলতি মেনে নেবো না। পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে বেশি বেশি মেলার আয়োজন করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জেলায় পাটের স্টল খুলতে হবে। তাহলে স্থানীয় বাজারেও পাটপণ্য কেনার আগ্রহ বেশি বাড়বে।
বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান শাহ মো. নাছিম জানিয়েছেন, সংস্থার লোকসান কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আগের বছরের ৬৫৬ কোটি টাকা থেকে গত বছর ৪৮১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা গেছে। লোকসানের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থ সংকটে মৌসুমের শুরুতে কৃষকের কাছে থেকে ন্যায্য দামে পাট কেনা যায় না। পরে অপর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ ও ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বেশি দামে ফড়িয়াদের কাছ থেকে পাট কিনতে হয়।