৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দ ছিল বাঙালির অনুভূতি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি (ফাইল ছবি) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দই ছিল বাংলার সাত কোটি মানুষের অন্তরের কথা, অনুভূতির কথা। তিনি বলেন, ‘গত আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে এমন কোনও ভাষণ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে ভাষণ শুনে সাত কোটি নিরস্ত্র মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এতই বিরল যে, পৃথিবীর আর কোনও ভাষণ এত বেশি মানুষ শোনেনি। এখন শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এই ভাষণ শোনা হয়।’

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন অব ইউনেস্কো এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইউনেস্কোর ৫২৯টি মোমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারের মধ্যে মাত্র একটি ভাষণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আর তা হলো ৭ মার্চের ভাষণ। এই ভাষণের প্রতিটি শব্দই ছিল বাংলার সাত কোটি মানুষের অন্তরের কথা, অনুভূতির কথা।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘কালের আবর্তে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়ার মধ্যেও কিছু বিষয় আছে কালজয়ী। বঙ্গন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এই রকমেরই একটি ভাষণ।’
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ এমন একটি কবিতা, যে কবিতার প্রতিটি পঙক্তি গবেষণার দাবি রাখে। এই ভাষণ ছিল অলিখিত, কিন্তু সুবিন্যস্ত। এই ভাষণের শব্দচয়নে বঙ্গবন্ধু আঞ্চলিক ও শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একাত্ম করেছিলেন।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বাঙালির ২৩ বছরের চাওয়া ও বঞ্চনা প্রতিফলিত হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মিজ সুনলে বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।’
বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন অব ইউনেস্কোর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. মনজুর হোসেন বলেন, ‘বিশ্ব সভ্যতার এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা হারিয়ে গেলে বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্থ হবে এমন বিষয়কে ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর প্যারিসে ইউনেস্কোর সাধারণ সভায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর ৫২৭তম মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। আরও বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাস।