সভাস্থল দখল করেছে ছাত্রলীগ, অভিযোগ স্বতন্ত্র পরিষদের

Dakshuঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে নিজেদের পরিচিতি সভার অনুমতি নিয়েছিল ‘সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতন্ত্র পরিষদ’। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত সভা করার অনুমতি থাকলেও সভাস্থল ছাত্রলীগ দখল করে রাখায় তারা সেটি করতে পারেনি। ছাত্রলীগের প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’ কোনও ধরনের অনুমতি ছাড়া নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সেখানে সভা করেছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতন্ত্র পরিষদের সদস্যরা। হলের টিভি কক্ষে এ পরিচিতি সভাটি আয়োজন করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, অনুমতি নিয়েই এ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রত্যেকটি হলের পরিচিতি সভার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে আগেই লিখিতভাবে অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সুতরাং মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনও লাভ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনেই চলে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের স্বতন্ত্র প্যানেল সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতন্ত্র পরিষদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী সাগুপ্তা বুশরা মিশমা বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত একটি মতবিনিময় সভার জন্য হলের টিভি রুমের বরাদ্দ চেয়েছিলাম। গতকাল দুপুরে আমরা অনুমতি নিয়েছি। সেখানে আজকে যখন প্রোগ্রাম করতে আসি তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ছাত্রলীগের প্যানেল তাদের প্রোগ্রাম দিয়েছে। শেষ করেছে রাত সাড়ে ৮টায়। “পাঁচ মিনিট-পাঁচ মিনিট” বলে তারা আমাদের সময় নষ্ট করেছে। ইচ্ছে করেই তারা আমাদের সভা করতে দেয়নি। আমরা এ দখলদারিত্বের তীব্র নিন্দা জানাই।’

উল্লেখ্য, সাগুপ্তা বুশরা মিশমা সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতন্ত্র পরিষদ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে এই পদে গত ৪ মার্চ কেন্দ্রীয় সংসদের স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী এআরএম আসিফুর রহমানকে তিনি সমর্থন জানান।

আজকের পরিচিতি সভাতে অংশ নিতে এসেছিলেন এআরএম আসিফুর রহমান। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সভা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। আসিফুর রহমান বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে আমাদের প্রজেকশন মিটিংয়ের জন্য অনুমতি নেওয়া ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হয়ে জানতে পারি কোনও ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই একটি গোষ্ঠী আমাদের সভাস্থল দখল করে আছে। দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে, প্রশাসনকে বারবার বলেও আমরা মিটিং করতে পারিনি। এ ধরনের দখলদারিত্ব যুগ যুগ ধরে চলমান। এর বিরুদ্ধে একমাত্র ব্যালটই পারে জবাব দিতে। ১১ তারিখ শিক্ষার্থীদের পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন।’