প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে কুকুরকে একটানা ২৪ ঘণ্টা বেঁধে বা আটকে রাখলে তা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য ছয় মাসের জেলের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
১৯২০ সালের পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরোধ আইন বাতিল করে নতুন আইন করা হচ্ছে।
যুক্তিযুক্ত প্রয়োজনে ভেটিরিয়ান সার্জনের লিখিত পরামর্শ ও পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনও প্রাণীর অজ্ঞান ও ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটানো হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
এই আইন লঙ্ঘন করে অপরাধ করলে বা কোনও অপরাধে সহায়তা করলে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।
আগের আইনে বিভিন্ন অপরাধের জন্য তিন মাসের জেল এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হতো।
প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে এই আইনের অধীন অপরাধের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। তবে তার আগে মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিলে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও প্রাণীকে দৈহিক কলাকৌশল প্রদর্শনের জন্য প্রশিক্ষণ বা দৈহিক কসরৎ প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ও কোস্টগার্ডের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
বিলে বলা হয়েছে, খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রাণী জবাইয়ের সময় এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উৎসর্গকালে যেকোনও ধর্মালম্ববী ব্যক্তি কর্তৃক নিজস্ব ধর্মীয় আচার অনুযায়ী কোনও কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে তাকে নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য করা হবে না।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধের জন্য যেসব অপরাধের বর্ণনা ও দণ্ড বিদ্যমান আইনে আছে তা অনেকাংশে বর্তমানে অপ্রতুল ও প্রয়োগযোগ্য নয়। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিবেসম্পন্ন মানুষ ভাষাহীন প্রাণীর কল্যাণে এগিয়ে এসেছে। সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ ও অপরাধের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাণীর প্রতি কল্যাণকর ও মানবিক আচরণেরও দাবিও উত্থাপতি হচ্ছে।’