সরকারের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমেই জাপা বিরোধী দলে
জি এম কাদের বলেন, ‘মহাজোটগতভাবে ভোটে অংশ নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারে থাকার কথা ছিল জাতীয় পার্টির। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছি তাদের বিপর্যয়ের কারণে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা সবচেয়ে ভালো বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়। সরকারেরর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই আমরা বিরোধী দলের ভূমিকায় বসেছি। এই ভূমিকাকে পাতানো খেলার সঙ্গে তুলনা করলেও বিষয়টি ঠিক নয়।’ তিনি বলেন, সমালোচনাকে শত্রুতা মনে করলে হবে না। সহায়ক শক্তি হিসেবে মনে করতে হবে।
উচ্চ প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণ পাচ্ছে না
সরকারেরর কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি জনগণের কাছে একটা সংখ্যা মাত্র। কী লাভ হলো এটা বড় বিষয়। এর বড় বিষয় হচ্ছে বেকার সমস্যার সমাধান। এই বেকার সমস্যার সমাধান হয়নি। সিপিডি বলেছে, উচ্চ প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণ পাচ্ছে না। ৪ কোটি ৮২ লাখ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বেকার। এক বছরে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ১৭ লাখ। আয় বৈষম্য বেড়ে যাচ্ছে।
অবকাঠামো নির্মাণ খরচ আশপাশের দেশের তুলনায় বেশি
জি এম কাদের বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ খরচ আশপাশের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। সড়ক নির্মাণে সবচেয়ে বেশি খরচ বাংলাদেশে। দুর্নীতি ও সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ার কারণে ব্যয় বাড়ছে। ঢাকা–মাওয়া চারলেন প্রকল্প ভারতে সড়ক নির্মাণের চেয়ে ১০ গুণ ব্যয় বেশি। উড়াল সড়কের নির্মাণ খরচ ভারতেরর চেয়ে সাড়ে চারগুণ বেশি। সুশাসন প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় দলের এ উপনেতা বলেন, গত বছরে ৪৬৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ, হত্যা এবং নারী নির্যাতনও বিপুল। সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন ২০ জন মারা গেছেন।
দেশে ঐক্যমত্য প্রয়োজন: রওশন এরশাদ
এর আগে সংসদে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো–চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, ‘দেশে ঐক্যমত্যের প্রয়োজন। নতুবা দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দশম সংসদে আমরা সর্বাত্মক সাহায্য করেছি। আলোচনা, সমালোচনা ও সহযোগিতা করেছি। স্বাধীনতার পর এতটা সুন্দরভাবে সংসদ চলেনি। আমরা দেখেছি বিরোধী দল সরকারের কাজ বাধাগ্রস্ত করতো। আমরা উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা করেছি।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সুস্থ জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ‘তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। সুস্থ হলেই সংসদে আসবেন।’
আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী।