জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, মানবপাচার মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সরকারের নানা কার্যক্রম সত্ত্বেও মানবপাচার কমেনি। পাচারের শিকার ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই মানবপাচারের ঘটনায় হওয়া মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সরকারকে প্রতিশ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে ব্র্যাকের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত মানবপাচার প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাঈদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, সরকার ২০১২ সালে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন করেছে। কিন্তু এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় আমরা আশানুরূপ ফল পাচ্ছি না। এই আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। ২১ ধারায় বলা হয়েছে, মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত কোনও জেলায় ট্রাইব্যুনাল হয়নি। ফলে এখনও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার চলছে। এতে দীর্ঘসূত্রিতার পাশাপাশি যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মামলা। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সারাদেশে সম্ভব না হলেও প্রাথমিকভাবে পাঁচটি বিভাগে কিংবা যেসব এলাকায় পাচারের ঘটনা বেশি ঘটে সেসব এলাকার শীর্ষ ১০টি জেলায় অন্তত একটি করে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হোক। তাহলে ভুক্তভোগীরা সঠিক সময়ে ন্যায়বিচার পাবে। আগামী বাজেটে এই খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য নজরুল ইসলাম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ ফায়জুল কবির, মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী সালমা আলী, ব্র্যাকের পরিচালক কে এম মোরশেদ, ব্র্যাকের হেড অব মাইগ্রেশন শরিফুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।