ক্রাইস্টচার্চে নিহত বাংলাদেশিদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

সংসদীয় কমিটির বৈঠকক্রাইস্টচার্চের মসজিদে জঙ্গি হামলায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশিকে নিউ জিল্যান্ড সরকার কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, তা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুস্পষ্ট বিবরণ  সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশি কোনও ডেলিগেট ও খেলোয়াড়রা বিদেশ সফরে গেলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.কে. আব্দুল মোমেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ,  গোলাম ফারুক খন্দঃ প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান, মো. হাবিবে মিল্লাত ও নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং কোনও ডেলিগেট বিদেশ সফরে গেলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত আছে। তবে মিয়ানমার এখনও তাদের আগের অবস্থানেই আছে। শরণার্থীদের ফেরত নিতে তারা গড়িমসি করছে। যদি স্বেচ্ছায় কোনও রোহিঙ্গা শরণার্থী ফেরত যেতে না চায় বা ভাসানচরেও যেতে না চায় তাহলে জোর করে তাদের পাঠানো হবে না। এ সংকট সমাধানে সংসদীয় কমিটি ভারত, চীন, রাশিয়া এবং আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার সুপারিশ করেছে।’

বৈঠকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রতিমাসে কমপক্ষে একটি করে বৈঠক আহ্বানের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সব কর্মকর্তাদের পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে স্থায়ী কমিটিতে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সমস্যা সমাধানে দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার জন্য বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশি মিশনসমূহকে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।